সম্পদের পাহাড় গড়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্তত ১২ প্রকৌশলী এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায়। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আলোচিত টেন্ডার সিন্ডিকেট, ঠিকাদার চক্র, বদলি-বাণিজ্য ও প্রকল্পের অনিয়মের মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চললেও নানা কারণে দুদকের কার্যক্রম বারবার থমকে যাওয়ায় অভিযুক্তদের একটি অংশ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বিশেষ করে মোসলেহ উদ্দিন, ড. মঈনুল ইসলাম (অবসরে), একেএম সোহরাওয়ার্দী, ফজলুল হক মধু, নির্বাহী প্রকৌশলী আজমল, ও মো. ইলিয়াস আহমেদকে ঘিরে অভিযোগের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পতিত সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হলেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অনেক ক্ষেত্রেই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে এগোয়নি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুদক যদি কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে অনুসন্ধান শেষ করতে পারে, তাহলে আলোচিত এই চক্রের অন্তত এক ডজন প্রকৌশলী আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। ইতোমধ্যে দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের মদতদাতা হিসেবে অভিযোগ ওঠা সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। সংস্থাটির ভেতর ও বাইরের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দুদক থেকে প্রাপ্ত নথি ও অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধেই ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গড়ে ওঠা আলোচিত টেন্ডার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। তাদের কারও কারও সঙ্গে গণপূর্তের আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীম, রাজউক-গণপূর্তের প্লট বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচিত গোল্ডেন মনির এবং রূপপুরের ‘বালিশকাণ্ড’-এর সঙ্গে নাম জড়ানো সাজিন এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার শাহাদত হোসেনসহ বিতর্কিত ঠিকাদারদের যোগাযোগের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের নথিতে বলা হয়েছে, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও শরীফ আহমেদ বিতর্কিত ঠিকাদারদের মদত দিয়েছেন। টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং রূপপুরের বালিশকাণ্ডের নেপথ্যে শ ম রেজাউলের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সাবেক মন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধেও। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার সিন্ডিকেটকে সহায়তা ও গণপূর্তের বদলি-বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া।
যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে তারা হলেন—সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন (বর্তমানে প্রেষণে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রকৌশল ও সমন্বয় বিভাগে কর্মরত), অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম সোহরাওয়ার্দী, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসু, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রোকনউদ্দিন (বরখাস্ত), সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহমেদ এবং সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রধান মুমিতুর রহমান।
দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
টিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বাসিন্দা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের বিরুদ্ধে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলোচিত ‘বালিশকাণ্ড’-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাজিন এন্টারপ্রাইজকে অতিরিক্ত দরে কেনাকাটার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তার প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন গায়েব এবং নিরীহ কর্মকর্তাদের দায়ী করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রভাব খাটিয়ে নিজের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের নামে প্লট-ফ্ল্যাট নেওয়া এবং তা বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বড় ছেলে সৌরভ এবং ছোট ছেলে ইমনের ‘প্যারাডাইম আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’ নামের অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক। ঢাকার বনশ্রী এলাকায় আত্মীয়স্বজনের নামে একাধিক প্লট কেনার অভিযোগের রেকর্ডও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রূপপুর প্রকল্পের ‘বালিশকাণ্ড’-এর প্রাক্কলন তৈরির সময় অস্বাভাবিক দর নির্ধারণে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়ে জুনিয়র কর্মকর্তাদের দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রাক্কলনে স্বাক্ষর করানো হতো। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে টেন্ডার-সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তার ছেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। প্রায় একই ধরনের অভিযোগে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধেও।
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মিস্টার ১৫ শতাংশ’ নামে পরিচিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন বর্তমানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) হিসেবে কর্মরত। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাইতুল আমান হাউজিং এলাকায় তার অভিজাত বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সাজিন এন্টারপ্রাইজের শাহাদাত হোসেন, নভেল্টি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লিটু এবং গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোসলেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০১৯-২০ সালে দুদক তাদের অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি এবং পরে কেবিনেট ডিভিশনের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। নতুন করে অনুসন্ধানের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিন্দুকেরা অস্ট্রেলিয়ায় তার বাড়ি থাকার কথা বললেও তিনি চাকরি জীবনে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
দুদকে আমলে নেওয়া অভিযোগপত্রে ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ হিসেবে পরিচিত ড. মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নিকটাত্মীয় এবং হাসিনা সরকারের সময় বিশেষ সুবিধাভোগী ছিলেন। দুই বছরের বৈদেশিক ছুটি নিয়ে দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেও প্রভাব খাটিয়ে পুনর্বহাল হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজ এলাকায় নামে-বেনামে ২০০ একরের বেশি সম্পদ কেনা এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন তিনি। এসব অভিযোগেরও অনুসন্ধান চলছে।
গণপূর্ত সার্কেল-৪-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করা এবং পোস্টিং-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৬ বছর ঢাকায় অবস্থান করে গুলশান, ধানমন্ডি, বনানী ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন তিনি। তার সম্পদের উৎস ও অর্জনের বৈধতা খতিয়ে দেখছে দুদক।
গণপূর্ত মেট্রোপলিটন জোনের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসুর বিরুদ্ধেও গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণকাজে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি বরখাস্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রোকনউদ্দিনও রয়েছেন আলোচিত তালিকায়। তিনি বরখাস্ত হওয়ার পর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। জিকে শামীমকে এনবিআর ভবন ও নিউরো সায়েন্স ভবনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অস্ট্রেলিয়ার সিটি সেন্টারে স্ত্রীর নামে একাধিক দোকান, সিডনিতে মেয়ের নামে সিএনজি স্টেশন, বিলাসবহুল বাড়ি ও দোকান এবং দেশে ধানমন্ডিতে কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। মাদারীপুরের কালকিনিতে আলিশান বাংলোবাড়ির কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ সবশেষ হাসিনা সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসেকা রহমানের পিএস ছিলেন। এর আগে নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে ঢাকার ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, গুলশান ও বনানীতে নামে-বেনামে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে একাধিক প্লট, কয়েক বিঘা জমি এবং চট্টগ্রামে বিপুল জমি ও আলিশান বাংলোবাড়ির কথা বলা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলুল হক মধুর বিরুদ্ধে নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই জিকে শামীমকে ১০ দশমিক ৫ কোটি টাকার বিল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রভাবশালীদের তদবিরে তাকে শুধু লঘুদণ্ড হিসেবে বেতনের এক ধাপ নিচে অবনমিত করা হয় এবং পরে পদোন্নতিসহ রাজশাহীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই চক্রের আরেক সদস্য হিসেবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রধান মুমিতুর রহমানের নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেটে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, দুদকের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত একটি দল জিকে শামীমসহ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কথিত টেন্ডার সিন্ডিকেটের বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিল। কিন্তু সৈয়দ ইকবাল হোসেন অবসরে যাওয়ার পর এবং টিমের অপর সদস্য উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ও উপপরিচালক মোহাম্মদ নেয়ানুল আহসান গাজী বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে অনুসন্ধান কার্যত থেমে যায়।
সম্প্রতি বর্তমান দুদক কমিশন নতুন করে অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদের নেতৃত্বে গঠিত টিমে রয়েছেন উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার, সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া এবং উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি। তবে টিমপ্রধান আব্দুল মাজেদের চাকরির মেয়াদও শেষের পথে এবং গুলশান আনোয়ার বদলি হয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একের পর এক কর্মকর্তা বদলি, অবসর এবং অনুসন্ধান টিম ভেঙে যাওয়ার কারণে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা এসব অভিযোগ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের তথ্য যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে গণপূর্তের কথিত ‘মাফিয়া’ চক্রের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দুদকের অনুসন্ধান কতটা প্রভাবমুক্ত ও কার্যকরভাবে এগোয়—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট নথি, অভিযোগ ও সূত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে দুদকের অনুসন্ধান, তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
