সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ‘মিস্টার ৫%’: গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতি ও সম্পদের পাহাড়

আবদুর রহমান
আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১১:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের নানা অভিযোগের মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে আবুল খায়েরের নাম। সংশ্লিষ্ট মহলে তাকে ঘিরে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, ঠিকাদারি প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গণপূর্তের বিভিন্ন কাজ ও দরপত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কমিশন বাণিজ্যের কাঠামো। আর সেই সূত্রেই আবুল খায়েরকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে কথিত ‘মিস্টার ৫%’ পরিচয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বণ্টন থেকে শুরু করে ঠিকাদার নির্বাচন—বিভিন্ন পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী বলয় সক্রিয় রয়েছে। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, প্রতিযোগিতা সীমিত করা এবং প্রকল্পের অর্থ থেকে কমিশন আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা?

গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে একই ধরনের কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বারবার কাজ পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়। ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রভাববলয় সক্রিয় থাকলে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

‘মিস্টার ৫%’ পরিচয় ঘিরে রহস্য

আবুল খায়েরকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো কথিত ‘৫%’ কমিশন। বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও এর পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী—তা এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দরপত্রের নথি, বিল-ভাউচার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন এবং ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি ‘সম্পদের পাহাড়’

আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে শুধু ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নয়, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। কোথা থেকে এসব সম্পদের উৎস, কীভাবে তা অর্জিত হয়েছে এবং সরকারি চাকরির আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগকারীদের মতে, তার সম্পদের হিসাব, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির দলিল এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।

তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল রহস্য

গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের অর্থ ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও জনস্বার্থের ওপর। তাই আবুল খায়েরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য, তার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কথিত ‘মিস্টার ৫%’ পরিচয়ের পেছনে বাস্তবতা কী—তা জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দরপত্রের নথি, প্রকল্পের ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ, বিল পরিশোধের তথ্য, ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদের হিসাব একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের কোনোটি বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই—গণপূর্তের কথিত সিন্ডিকেটের নেপথ্যে আসলে কারা? আর ‘মিস্টার ৫%’ নামে আলোচিত এই পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে কি কোনো বড় আর্থিক নেটওয়ার্ক? উত্তর মিলতে পারে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ