সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ে কোচিং, ঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী—প্রশাসনের নজরদারির দাবি

হারুন অর রশীদ
আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত একটি বিদ্যালয় ভবনে পরিচালিত কোচিং সেন্টার বন্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত ভবনে কোচিং পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারির দাবিও উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীর চর শামসের তলা এলাকায় অবস্থিত বৈরাগীর চর মরিচা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর চললেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিদ্যালয় ভবন ও আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণটি একসময় নেশাসক্ত তরুণদের আড্ডাস্থলে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বৈরাগী চর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন নিজ উদ্যোগে ও নিজ দায়িত্বে ওই ভবনে একটি কোচিং সেন্টার চালু করেন।

কোচিং সেন্টারের পরিচালক হেলাল উদ্দিনের দাবি, সেখানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে সম্প্রতি কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করতে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

হেলাল উদ্দিন বলেন, কোচিং সেন্টারটি বন্ধ হয়ে গেলে শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা সামনে থাকায় তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করা গেলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে এলাকার শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি অব্যবহৃত ভবনটিও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

এদিকে, পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনে কোচিং পরিচালনার বৈধতা, ভবনের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশ কতটা উপযোগী—এসব বিষয়ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিষয়টি শুধু কোচিং বন্ধ বা চালু রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদ্যালয় ভবনটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার এবং এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে হেলাল উদ্দিন দৌলতপুরের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার কাছেও জোর দাবি জানিয়েছেন। তার দাবি, বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে।

তবে কোচিং সেন্টার বন্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই—দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত একটি বিদ্যালয় ভবন কি আবার শিক্ষার আলোয় ফিরবে, নাকি প্রশাসনিক জটিলতায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে? এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।