কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে এক যুবকের মহড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ওই যুবককে একটি দোকানের সামনে গিয়ে কোমর থেকে অস্ত্র বের করে তা লোড করার পর বন্ধ শাটারে লাথি মারতে দেখা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যার আগে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের ময়রামপুর নতুন পাকুড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া ওই যুবকের নাম রিপন হোসেন (৩০)। তিনি ময়রামপুর নতুন পাকুড়িয়া এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে।
দোকানের সামনে অস্ত্র বের করে মহড়া
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে জানা যায়, রিপন হোসেন একটি দোকানের সামনে গিয়ে কোমর থেকে একটি অস্ত্র বের করেন। পরে সেটি লোড করে বন্ধ দোকানের শাটারে কয়েকবার লাথি মারেন। দোকানের ভেতরে কাউকে না পেয়ে তাকে ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
তার এমন আচরণে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হতে শুরু করলে একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে অস্ত্র হাতে মহড়ার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পুরোনো বিরোধ থেকেই উত্তেজনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপনের বড় ভাই সোহেল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে সোহেলের স্ত্রী নাছরিন খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার রিপনের চাচাতো বোনের ছেলে ও ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শামীম হোসেনের (৩২) পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে।
এরই সূত্র ধরে একপর্যায়ে শামীম হোসেন নাছরিনকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি সোহেল প্রবাস থেকে বাড়িতে ফিরলে পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, এরই জেরে শুক্রবার বিকেলে রিপন হোসেন অস্ত্র হাতে শামীমকে মারার উদ্দেশ্যে তার দোকানের সামনে যান।
আসলেই আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তদন্ত করছে পুলিশ
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, “ভিডিওতে অস্ত্র হাতে একজনকে শাটারে লাথি মারতে দেখা গেছে। তবে সেটি আসলেই আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে। পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অস্ত্রটি কী ধরনের, ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং ওই যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। এদিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়ার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
