ফাইল ছবি
দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি-কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশের অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তৌহিদ আলম-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নানা ব্যর্থতা, ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা এবং অনিয়ম আড়াল করতে বিতর্কিত ফরেনসিক অডিট রিপোর্টকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কেপিএমজি বাংলাদেশ (রহমান হক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ফরেনসিক অডিটে ডেটা মুছে ফেলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এবং একই সফটওয়্যার দেশের একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আইটি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িক রিপোর্ট তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কিছু টেবিল ব্যবহার করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর এসব অস্থায়ী তথ্য মুছে ফেলা হলেও মূল লেনদেন, গ্রাহকের হিসাব বা আর্থিক তথ্য পরিবর্তন কিংবা অপসারণের সুযোগ সাধারণ ব্যবহারকারীদের নেই।
সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিডস কর্পোরেশন লিমিটেড-ও তাদের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, সিস্টেমের বাগ, ডুপ্লিকেট ডেটা এবং প্রযুক্তিগত অসঙ্গতি দূর করতে নির্দিষ্ট ডেটা ক্লিনিং বা সংশোধনমূলক কার্যক্রম একটি স্বাভাবিক প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। এর ফলে গ্রাহকের হিসাব, ব্যালেন্স বা আর্থিক লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়ে না।
এদিকে, আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সামনে রেখে বর্তমান ব্যবস্থাপনা ব্যাংকের সার্বিক ব্যর্থতা, আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম এবং শেয়ারহোল্ডারদের সম্ভাব্য কঠিন প্রশ্ন এড়াতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া, এমডি তৌহিদ আলম, চিফ লিগ্যাল অফিসার এস কে তারেক, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ফয়সাল আহমেদ এবং হেড অব ফাইন্যান্স রাসেদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডাররা।
তাদের অভিযোগ, প্রকৃত মালিক ও উদ্যোক্তাদের বাইরে রেখে বর্তমান প্রশাসন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নানামুখী কৌশল অবলম্বন করছে, যা শুধু করপোরেট সুশাসনের প্রশ্নই নয়, বরং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্যও উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ আলম এবং চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় নজরদারি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকটির একাধিক উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডার। এখন প্রশ্ন উঠেছে—আসন্ন এজিএমে কি এসব অভিযোগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মিলবে, নাকি এনআরবিসি ব্যাংককে ঘিরে নতুন কোনো করপোরেট সংকট আরও গভীর হবে? তবে ব্যাংকের গোটা ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সঠিক উত্তরটি খুঁজছে নেটিজেনরা।
