এমপিওভুক্তির দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোঃ টিপু সুলতান। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং কলেজের আশপাশের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন আমার প্রধান অগ্রাধিকার। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবো।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে বর্তমানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
কলেজের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে অধ্যক্ষ মোঃ টিপু সুলতান বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন ভবনের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকাও একটি বড় সমস্যা। তবে আমি আশাবাদী, কলেজটি সরকারি এমপিওভুক্ত হলে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হবে।
তিনি কলেজের এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তার বিশ্বাস, এমপিওভুক্তি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
কলেজের এমপিওভুক্তির দাবিতে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলও একমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, এমপিওভুক্তি হলে শুধু শিক্ষক সংকট দূর হবে না, বরং শিক্ষার্থীরা আধুনিক ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা লাভের মাধ্যমে আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে।
শিক্ষা, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক উন্নয়নের প্রত্যাশায় মোঃ টিপু সুলতানের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
