শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলজিইডিতে বিধিবিধান অমান্যের প্রতিযোগিতা! প্রশ্নের মুখে ২৫৭ প্রকৌশলীর জ্যেষ্ঠতা, নিয়ম নেই, সুপারিশ নেই—তবুও জ্যেষ্ঠতার তালিকায় নাম

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৮:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ২৫৭ প্রকৌশলীকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, চাকরি নিয়মিতকরণ, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পিএসসির সুপারিশ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদোন্নতি—প্রায় প্রতিটি ধাপেই উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যাদের চাকরি নিয়মিতকরণ নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রথম শ্রেণির প্রকৌশলীদের জ্যেষ্ঠতার খসড়া তালিকায়।

অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও লিখিত মতামত পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগেই মত দিয়েছিল—উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত এসব প্রকৌশলীর চাকরি নিয়মিতকরণ যথাযথ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রণয়ন করা উচিত। কিন্তু সেই মতামত উপেক্ষা করেই চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ২৫৭ প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

খসড়া তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানোর জন্য দেওয়া হয় ৩০ কর্মদিবস। অথচ এর মাত্র চার দিনের মাথায়, ২৬ এপ্রিল, তালিকা চূড়ান্ত ও হালনাগাদের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে আহ্বায়ক এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে সমন্বয়ক করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে শুনানি করেছে। গত ১৭ আগস্ট তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সোমবার বলেন, শুনানি করাসহ সব বিধিবিধান মেনেই বিষয়টি সুরাহা করা হচ্ছে। এখনো তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়েছে। তার দাবি, কোনো অনিয়ম বা কারও প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে না।

১৮ বছর পর জ্যেষ্ঠতার তালিকা, উঠেছে পুরোনো হিসাব

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৮ সালে এলজিইডির প্রথম শ্রেণির প্রকৌশলীদের অনুমোদিত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ বছর পর নতুন খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই ২৫৭ প্রকৌশলীর নিয়োগ, নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব খাতে এখনো নিয়মিতকরণ না হওয়া ২৫৭ প্রকৌশলীকে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নিয়ম মেনে চাকরিতে আসা প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১০ সালে ১৩১ জন, ২০১১ সালে ১০৯ জন এবং ২০১৩ সালে ১৭ জন প্রকৌশলীকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়। এসব স্থানান্তরের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—পিএসসির সুপারিশ ছাড়াই তাদের প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

নিয়মিতকরণ ছাড়াই জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ২১২ জন!

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ২০০৫ সালের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়মিত হলে তার জ্যেষ্ঠতা নিয়মিতকরণের তারিখ থেকে গণনা করতে হবে। পিএসসির আওতাভুক্ত পদে আত্তীকরণের ক্ষেত্রেও কমিশনের সুপারিশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজস্ব খাতে এখনো নিয়মিতকরণ হয়নি—এমন ২১২ জন প্রকৌশলীকেও জ্যেষ্ঠতার খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মিতকরণের আগেই তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের সুযোগ আদৌ আছে কি না।

এ ছাড়া রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আগে প্রকল্পের চাকরিতে ধারাবাহিকতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রশাসনের মতে, অনিয়মের আওতায় থাকা ২৫৭ প্রকৌশলীর মধ্যে অন্তত ৪২ জনের প্রকল্প চাকরিতে ধারাবাহিকতা ছিল না। অথচ তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকেও জ্যেষ্ঠতার খসড়া তালিকায় রাখা হয়েছে বলে নথিতে উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটির চোখে ‘গুরুতর অনিয়ম’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এসব বিষয়ে গুরুতর পর্যবেক্ষণ রয়েছে। কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন বর্তমান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং এলজিইডির বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভূতাপেক্ষ তারিখ থেকে নিয়মিত করার সুযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২৫৭ প্রকৌশলীর নিয়মিতকরণের আদেশ জারি করা প্রয়োজন। নিয়মিতকরণ যথাযথভাবে না হওয়ায় তাদের জ্যেষ্ঠতা গণনারও সুযোগ নেই।

এমনকি সপ্তম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড এবং ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়ার আইনগত সুযোগ ছিল না বলেও মত দিয়েছে কমিটি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন

খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকায় থাকা প্রকৌশলীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তালিকার ৩৭৬ ও ৪৭১ নম্বর সিরিয়ালের দুই সহকারী প্রকৌশলী প্রকল্পে যোগদানের সময় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেননি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে ষষ্ঠ ও পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ৩৩৮, ৩৪০, ৩৪১, ৩৪৭ ও ৩৫১ নম্বর সিরিয়ালের পাঁচ প্রকৌশলীর এলজিইডির নিয়োগ বিধিমালা-২০০৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ, তাদেরও পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।

কৃষি ও যান্ত্রিক প্রকৌশলীও হলেন পুরকৌশলী!

নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কৃষি ও যান্ত্রিক প্রকৌশলসহ ভিন্ন শাখার পাঁচ প্রকৌশলীকে পুরকৌশলের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্দিষ্ট প্রকৌশল শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যত্যয় ঘটিয়েই নিয়োগ এবং পরবর্তী পদোন্নতির পথ তৈরি করা হয়েছে—তদন্ত নথিতে এমন অভিযোগও রয়েছে।

পিএসসির সুপারিশের বাধ্যবাধকতা ছিল

জ্যেষ্ঠতা জটিলতা নিরসনে স্থানীয় সরকার বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ মতামত দেয়।

মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়, এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী পদটি নবম গ্রেডের হওয়ায় নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১০, ২০১১ ও ২০১৩ সালে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত ২৫৭ প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে পিএসসির পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই জ্যেষ্ঠতার তালিকা করা সমীচীন বলে মত দেয় জনপ্রশাসন।

এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।

কিন্তু সেই মতামত ও নির্দেশনার পরও চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ২৫৭ প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করা হয়।

পিএসসির মতামত নেওয়া হয়নি—তথ্য অধিকার আবেদনে জবাব

রাজস্ব খাতে ২৫৭ প্রকৌশলীর নিয়মিতকরণে পিএসসির সুপারিশ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন নিয়মিতভাবে চাকরিরত প্রকৌশলীরা।

এর জবাবে এলজিইডির তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ২০২২ সালের ২৯ আগস্ট জানান, এসব প্রকৌশলীর রাজস্ব খাতে নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে পিএসসির অভিমত গ্রহণ করা হয়নি। এই জবাবই এখন পুরো জ্যেষ্ঠতা প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি অন্যতম প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিয়মিতকরণ ছাড়াই ১৮০ জনকে চলতি দায়িত্ব-

বিতর্ক এখানেই থেমে নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৩’-এর ৮(৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রকল্প থেকে আসা কোনো কর্মকর্তাকে রাজস্ব বাজেটে নিয়মিতকরণ না করা হলে তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।

কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় অনিয়মিত ১৮০ প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উঠে এসেছে।

নিয়মিতকরণের সঙ্গে যেহেতু জ্যেষ্ঠতার প্রশ্নও জড়িত, তাই ভূতাপেক্ষ তারিখ থেকে নিয়মিতকরণ করে একই তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এখন পিএসসির মতামত নেওয়ার তোড়জোড়

গুরুতর অনিয়মের প্রশ্ন সামনে আসার পর এখন রাজস্ব খাতে নিয়মিতকরণ না হওয়া ২৫৭ প্রকৌশলীকে ভূতাপেক্ষ নিয়মিতকরণের অংশ হিসেবে পিএসসি সচিবালয়ের মতামত বা সুপারিশ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট নথি ও পূর্ববর্তী সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভূতাপেক্ষ নিয়মিতকরণ হলেও সেই তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনার সুযোগ থাকবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

২০১০ সালের ১১ অক্টোবর তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ভূতাপেক্ষ নিয়মিতকরণ বিষয়ে জারি করা স্পষ্টীকরণ পত্রেও এ ধরনের জ্যেষ্ঠতা সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—জ্যেষ্ঠতা পেলেন কীভাবে?

সবকিছু মিলিয়ে ২৫৭ প্রকৌশলীর রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, নিয়মিতকরণ, পিএসসির সুপারিশ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির ধারাবাহিকতা ও পদোন্নতি—প্রায় প্রতিটি ধাপেই প্রশ্ন উঠেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ এবং মন্ত্রণালয়ের লিখিত মতামত সেই প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—যাদের রাজস্ব খাতে চাকরি নিয়মিতকরণই যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি, তাদের কীভাবে প্রথম শ্রেণির প্রকৌশলীদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় স্থান দেওয়া হলো?

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত প্রকৌশলীদের পক্ষে সদ্য নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়া একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবকিছু বিবেচনা করেই সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। নিয়মিত কর্মকর্তাদের কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সরকারের দেওয়া সিদ্ধান্ত মানার আহ্বান জানাচ্ছি।

অপরদিকে নিয়মিত কর্মকর্তাদের পক্ষে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ধাপে ধাপে কীভাবে একটি বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি ঢালপালা মেলছে, তা জনপ্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনই বড় প্রমাণ। মন্ত্রণালয় যদি এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়, রেকর্ডপত্র কিন্তু থেকেই যাবে। একদিন এই অনিয়মের দায় কেউ এড়াতে পারবেন না।

এখন দেখার বিষয়—২৫৭ প্রকৌশলীর জ্যেষ্ঠতার তালিকা শেষ পর্যন্ত কোন আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তিতে চূড়ান্ত হয়, আর জনপ্রশাসনের তদন্ত ও লিখিত আপত্তিগুলোর কতটা প্রতিফলন ঘটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।