শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চলতি বছরের ৮ মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১২%

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আয় কমেছে প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো, রপ্তানির পরিমাণ ও পণ্যের গড় দাম কমায় চাপে দেশের তৈরি পোশাক খাত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো কমে এক হাজার ১৯২ কোটি ইউরোতে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ছিল এক হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পণ্যের গড় দাম কমে যাওয়ায় আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস সংকলিত এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। এ সময়ে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর পোশাক আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ২৯ কোটি ইউরো, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু রপ্তানির পরিমাণ কমাই নয়, পণ্যের গড় দাম কমে যাওয়াও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হ্রাসের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ অঞ্চলে পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ফলে ইইউর বাজারে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্যের গড় দাম কমার প্রবণতাও দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।

আগস্টে রপ্তানি আয়ে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন

আট মাসের সামগ্রিক হিসাবে রপ্তানি কমলেও আগস্ট মাসের পরিসংখ্যানে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানির মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে বিপরীতে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে মাসভিত্তিক হিসাবে রপ্তানি আয়ে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

প্রতিযোগীদের মধ্যে এগিয়ে চীন ও ভিয়েতনাম

ইইউর বাজারে বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগীদের মধ্যে চীনের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দেশটির রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৭১ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ে চীনের রপ্তানি আয় ছিল এক হাজার ৯২৬ কোটি ইউরো।

তবে আলোচ্য সময়ে ইইউর বাজারে সবচেয়ে ভালো করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির পোশাক রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩০০ কোটি ইউরো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় ছিল ২৮৭ কোটি ইউরো।

অন্যদিকে, ইইউর বাজারে তুরস্ক, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি আয় কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমার চিত্র দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আগস্টে রপ্তানি মূল্যে সামান্য বৃদ্ধি এবং পণ্যের গড় দাম বাড়ার প্রবণতা কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।