ফাইল ছবি-সংগৃহীত
জন্মহার বৃদ্ধিতে পরিবারবান্ধব নীতিতে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ফ্রান্স। বুধবার থেকে মা ও বাবা—উভয়ের জন্যই নতুন করে বাড়তি বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটি। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সন্তানের জন্মের পর পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন অভিভাবকরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এতদিন প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে ফ্রান্সে মায়েরা প্রায় চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতেন। অন্যদিকে বাবাদের জন্য ছিল সন্তানের জন্মের পর ২৮ দিনের ছুটি। তবে বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি মা ও বাবা নিজেদের মধ্যে অতিরিক্ত এক বা দুই মাসের ছুটি ভাগ করে নিতে পারবেন।
এই অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে তারা পাবেন বেতনের ৭০ শতাংশ, আর দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ।
নতুন আইনটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের অভিভাবকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। শুধু জৈবিক সন্তান নয়, শিশু দত্তক নেওয়া অভিভাবকরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।
শুধু ফ্রান্স নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশেই জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে বিষয়টি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই পরিবারকেন্দ্রিক এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকার।
অবশ্য এটি মাখোঁ সরকারের প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে ২০২৪ সালেও জন্মহার বাড়াতে বিশেষ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে নতুন এই সংস্কার নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে দেশটির নারীবাদী সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। কারণ, বাস্তবতায় তুলনামূলক কম আয় করেন এমন সঙ্গীই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, আর ফ্রান্সে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অবস্থানে থাকেন নারীরা।
পরিবার, সন্তান এবং কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য গড়ে তুলতে ফ্রান্সের এই নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে জন্মহার বাড়ানোর লড়াইয়ে দেশটি যে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
