ফাইল ছবি
রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে নির্গত গ্যাসের বিস্ফোরণে তিন যুবক দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন—জুয়েল (২০), রানা (২২) ও পারভেজ (২১)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বাংখালি (ভাঙ্গাখালি) এলাকায়। তারা কাঁঠালবাগানের একটি ফার্নিচারের দোকানে কর্মরত ছিলেন।
ফার্নিচার ব্যবসায়ী রাজি মিয়া জানান, বুধবার রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে কাঁঠালবাগান এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ৪৪/এ নম্বর ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংককে কেন্দ্র করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন অগ্নিদগ্ধ হন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, জুয়েল ওই ভবনের একটি কক্ষে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় বুধবার রাতে কাজ শেষে জুয়েল, রানা ও পারভেজ ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। কক্ষটি একটি সেপটিক ট্যাংকের ওপর নির্মিত ছিল এবং সেখানে প্রায়ই গ্যাসের তীব্র গন্ধ পাওয়া যেত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কক্ষের ভেতরে দাহ্য গ্যাস জমে ছিল। মশার কয়েল জ্বালানোর জন্য ম্যাচ বা লাইটার ব্যবহার করতেই মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুয়েলের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ, রানার ৬৩ শতাংশ এবং পারভেজের ২১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ রানা বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর দুইজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, কক্ষটি দুই দিন ধরে বন্ধ ছিল। বুধবার রাতে তিন যুবক কক্ষে প্রবেশ করে লাইটার জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, নিচের সেপটিক ট্যাংক থেকে নির্গত গ্যাস দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষের ভেতরে জমে ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
