ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম আদালতে জামিন শুনানির সময় অসংলগ্ন কথা বলা ও অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে আইনজীবী শাহেদুল হকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। তাঁর সদস্যপদ স্থগিত করার পাশাপাশি আগামী দুই বছর চট্টগ্রামের কোনো আদালতে মামলা পরিচালনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন জানান, আদালতে শুনানির সময় আইনজীবী শাহেদুল হকের অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তবে তাঁর বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় দুই বছরের জন্য পেশাগত কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমিতির এ সিদ্ধান্ত আদালতকেও চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
জামিন শুনানিতে কী ঘটেছিল?
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হালিশহর থানার একটি নালিশি মামলার আসামি এমরান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী শাহেদুল হক। তবে শুনানির কার্যক্রম শুরু করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শ্যামলী চৌধুরী। এ সময় আদালত জানতে চান, বাদীপক্ষের আইনজীবী আসামির জামিনের শুনানি করতে পারেন কি না।
জবাবে শ্যামলী চৌধুরী আদালতকে জানান, আসামির আইনজীবী শাহেদুল হক আদালতে আসতে চাইছেন না। এ কারণে তিনি জামিনের শুনানি করতে চান। একই সঙ্গে আসামির জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলেও আদালতকে জানান তিনি। তবে আদালত স্পষ্ট করেন, জামিন শুনানিতে আসামির আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন।
পরে বুধবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন শাহেদুল হক। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, শুনানির সময় তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, আসামি ভুল করেছে আর ভুল করবে না। আদালতের নিকট জামিন চাই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ডোপ টেস্টের নির্দেশ
আদেশে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ আসামির জামিনে অনাপত্তি জানালেও শাহেদুল হকের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদও স্বাভাবিক ছিল না। এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি মদ্যপান করেছেন বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতে ওই ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। তদন্ত কমিটির কাছে শাহেদুল হকের বক্তব্য গ্রহণের পর তা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হওয়ায় তাঁর সদস্যপদ স্থগিত এবং দুই বছরের জন্য আদালতে মামলা পরিচালনায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের আইনজীবী মহলে পেশাগত আচরণ ও আদালতের শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
