সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্ধর্ষ ডাকাত—১৬ থানায় ৩৪ খুন, ডাকাতি ও নারী নির্যাতনের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৯:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মিজানকে আটক করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

আজ রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১২টা। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কাছে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ থেকে একটি কল আসে। বার্তা ছিল– একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি মহাসড়কে পড়ে আছেন। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মহাসড়ক থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। এরপর উদ্ধারকারী দলটি মহাসড়কে নিয়মিত টহল দিতে শুরু করে। তারা দেখে, করটিয়ার খুদিরামপুর এলাকায় ঢাকাগামী মহাসড়কে গরুবাহী একটি পিকআপের সামনে আড়াআড়ি করে মাইক্রোবাস রাখা আছে। এমন দৃশ্য দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর সেখানে গিয়ে পিকআপের চালক পুলিশকে জানান, তারা ডাকাতদের কবলে পড়েছেন। মাইক্রোবাসের আরোহীরা ডাকাত দলের সদস্য। গরুভর্তি পিকআপটি নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। তখন পুলিশ মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। মো. মিজান (৫০) নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করে। অন্যরা মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যান।

পরে মিজানের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ১৬টি থানায় ৩৪ মামলার আসামি তিনি। খুন, ডাকাতি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ধারায় এসব মামলা হয়েছে। মিজানের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরে। মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে ডাকাতি করে আসছেন মিজান।

পুলিশ বলছে, মিজানের বিরুদ্ধে যেসব থানায় মামলার তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে আছে খিলগাঁও, ডেমরা, কাফরুল, পল্লবী, সবুজবাগ, পল্টন, ওয়ারী, পাবনা সদর, ঝালকাঠির রাজাপুর, ফরিদপুরের ভাঙা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নরসিংদীর মাধবদী, ধামরাই, আশুলিয়া, পূবাইল ও কালিয়াকৈর। কিছু মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। কিছুর তদন্ত চলছে।

হাইওয়ের এলেঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, মিজান দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নেতা। বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে ডাকাতিসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছেন তিনি। একাধিকার বার কারাগারে গেছেন। আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়াচ্ছেন।

পুলিশ বলছে, মিজান যে গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, তাদের মধ্যে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সর্বশেষ গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে মিজান ৯টি গরুভর্তি পিকআপ টার্গেট করেছিল। পিকআপে থাকা চারজনকে মারধর ধরে পিকআপটি চালিয়ে নিয়ে নেওয়ার ছক ছিল তার। এরপর মিজানের অন্য সহযোগীরা মাইক্রোবাসে তাকে অনুসরণ করত। পুলিশ বলছে, সাধারণত দুইভাবে তারা ডাকাতি করে। প্রথমত, গরু ডাকাতি করতে ট্রাকে বা পিকআপে থাকা লোকজনকে মারধর করে থাকেন। আবার অনেক সময় কৌশলে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়ে থাকে। কখনো ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যার মতো ঘটনা ঘটাতে তারা পিছপা হন না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।