পূর্ববিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এলাকায় উত্তেজনা; পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন। প্রতীকী ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা টেংগর (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি মরারপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম মোস্তফা টেংগর ওই গ্রামের মৃত দয়োমের ছেলে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন—মরারপাড়া গ্রামের সুমন মিয়া (৫০), হাদু মন্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আযাদ মন্ডল (৬০) ও রাজু মন্ডল (৩০)।
সালিশ বৈঠক থেকে সংঘর্ষ
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মরারপাড়া এলাকায় স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসানো হলে সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদকদ্রব্য ও পাতার বিড়ি বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে গোলাম মোস্তফা টেংগরসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের মাথা, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই গুরুতর আহত গোলাম মোস্তফা টেংগরের মৃত্যু হয়।
আহত অন্য সাতজনকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা, পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মরারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা এলাকায় টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহত গোলাম মোস্তফা টেংগরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মরারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
