শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাবনায় দুই নেতাকে গুলি করে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার নেই, হয়নি মামলাও

পাবনা জেলা প্রতিনিধি
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৮:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এক যুগ আগে চার খুনের রক্তাক্ত স্মৃতি—আবারও একই স্থানে জোড়া হত্যাকাণ্ড। সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে মুখোশধারী ছয় দুর্বৃত্তের তাণ্ডব। আতঙ্কে থমথমে পুষ্পপাড়া বাজার। হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ স্বজনকে ঘিরে আহাজারি। ছবি: ফাইল

পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজারে একই স্থানে আবারও ঝরল রক্ত। এক যুগ আগে যে বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা, সেই একই স্থানে এবার মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল শ্রমিকদল ও শ্রমিক লীগের দুই নেতার। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অথচ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। শুক্রবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলাও হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানাধীন পুষ্পপাড়া বাজারে এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন আতাইকুলা থানা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৩৭) এবং পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ও পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম (৫৫)।

সিসিটিভিতে ধরা পড়ল এক মিনিটের তাণ্ডব

ঘটনার পর ঘাটের ইজারাদারের কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে পশ্চিম দিক থেকে মুখোশ পরা ছয় ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।

মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুইজনকে গুলি করে পশ্চিম দিক দিয়েই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পালানোর সময়ও আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে তারা। মুহূর্তের মধ্যে এমন তাণ্ডবে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভয়ে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাননি।

নিহতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপন হোসেন আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। অপর নিহত আব্দুস সালাম একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে।

সালাম পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর তাকে জামায়াতের বিভিন্ন মিছিল, সভা ও সমাবেশে দেখা গেছে।

এক যুগ পরও কাটেনি পুরোনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য

এলাকাবাসী জানান, ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় এই একই বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। বহুল আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর একই বাজারে আবারও প্রকাশ্যে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মনে ফিরে এসেছে পুরোনো আতঙ্ক। চরমপন্থি তৎপরতার জন্য অতীতে পরিচিত আতাইকুলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই স্থানে বারবার এমন হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

‘আমাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে হত্যা’

নিহত আব্দুস সালামের বড় ভাই আব্দুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে চারজন হত্যার ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কারাগারে থাকলেও তার নামেও মামলা দেওয়া হয়।

আব্দুল কালামের দাবি, এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের পরিবারকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিএনপি নেতার ক্ষোভ

একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির নেতা আনিছুল হক বাবু।

তিনি সমকালকে বলেন, নিহত রিপন গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে নানা ধরনের জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তিনি বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস পুলিশের

পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু আশ্রাফ সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

তিনি বলেন, আতাইকুলা অঞ্চল আগে থেকেই চরমপন্থি তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে পরিচিত। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে এ অঞ্চলে অপরাধের প্রবণতা কমেছে। পাবনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম ঘটেছে।

পুলিশ সুপার আশা প্রকাশ করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তবে একই স্থানে বারবার এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।