ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আন্নিশা আক্তার মুনিয়া (১৬) চান্দাইকোনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শিক্ষক রইস উদ্দিনের মেয়ে। গত ১ মে সন্ধ্যায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তবে পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে মুনিয়া লিখেছে, ‘আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি।
চিরকুটে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে সে স্পষ্ট ভাষায় দায়ীদের চিহ্নিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার চান্দাইকোনা এলাকায় সহপাঠী ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরিবারের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল শুরু থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি চিরকুটটি গোপন রাখার জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে, রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসানুজ্জামান জানান, ঘটনার পর ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ভিকটিমের চিরকুটে উল্লিখিত তথ্য ও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে চিরকুটে উল্লেখিত সম্ভাব্য জড়িতদের নাম আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।
এদিকে সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের প্রশ্ন—আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে কে বা কারা একজন কিশোরী শিক্ষার্থীকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিল? সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
