শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিরোধী দলে নির্যাতিত, সরকারে অবহেলিত—ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন

আবদুর রহমান
আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৮:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ফটো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় এখন পর্যন্ত ঠাঁই হয়নি দলের দীর্ঘদিনের একাধিক ত্যাগী, পরীক্ষিত ও রাজপথের পরিচিত নেতার। এ তালিকায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদিন ফারুক, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মতো নেতারা।

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ত্যাগ, নির্যাতন, মামলা, কারাভোগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে এসব নেতা দলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পরও সরকার গঠনের পর তাদের অনেকের মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া নিয়ে দলের তৃণমূলে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা। নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মীদের মনোবলে।

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। এর আগে প্রায় দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বিএনপির অনেক নেতা। কেউ পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন, কেউ টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের মুখে পড়েছেন, আবার অনেকের বিরুদ্ধে হয়েছে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তার। গণমাধ্যম, টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে সরকারের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

বছরের পর বছর জেল-জুলুম, মামলা ও হামলা সহ্য করে দলকে মাঠে সক্রিয় রাখা এসব নেতার অনেকে এখন ক্ষমতার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের বাইরে থাকায় দলের ভেতরে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রশ্ন উঠছে—বিরোধী দলে থাকাকালে যারা ঝুঁকি নিয়ে দল ও আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছেন, সরকারে এসে তাদের মূল্যায়নের চিত্র কতটা দৃশ্যমান?

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজপথের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পুলিশের হামলা ও টিয়ারশেলের মুখেও রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। ২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনায় আসে।

২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে দলীয় অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় রক্তাক্ত গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতিতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পথচলা ষাটের দশকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।

১৯৮৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি তিনি।

রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির কঠিন সময়ের অন্যতম আলোচিত মুখ রুহুল কবির রিজভী। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কার্যত নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বানিয়ে বছরের পর বছর সংবাদ সম্মেলন, দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন তিনি।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ভ্যানে রিজভীকে তোলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

মামলা ও কারাভোগের ঝুঁকি নিয়েও নিয়মিত গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও একাধিকবার আলোচনায় আসে।

দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক ভূমিকার পর মন্ত্রিসভায় জায়গা না হলেও মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

শামসুজ্জামান দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী দলের অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। টকশো, গণমাধ্যম, সভা-সমাবেশ ও রাজপথের কর্মসূচিতে নিয়মিত দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

শামসুজ্জামান দুদুকে কোর্টে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও কারাভোগের পাশাপাশি দলের দুঃসময়ে মুখপাত্রের ভূমিকাতেও সক্রিয় ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর বিএনপি সরকার গঠন করলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি তাঁর।

জয়নুল আবদিন ফারুক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জয়নুল আবদিন ফারুক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার শিকার হন জয়নুল আবদিন ফারুক। ছবি: সংগৃহীত

তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়। রক্তাক্ত হওয়ার পরও আন্দোলন থেকে সরে যাননি তিনি।

বিএনপি সরকার গঠন করলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি এই প্রবীণ নেতার। এ নিয়ে তাঁর অনুসারী ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জয়নুল আবদিন ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে ত্যাগী নেতাকর্মীর সংখ্যা অসংখ্য। সবাইকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে সবাইকে মূল্যায়ন করবেন বলে বিশ্বাস করি।’

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

টকশো, গণমাধ্যম ও রাজপথের বক্তৃতায় সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে আলোচিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকার কারণে তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করতে হয়েছে।

নয়াপল্টনে এক কর্মসূচি থেকে আলালকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ৩৫৭টি বলে তিনি জানিয়েছেন। শারীরিক নির্যাতন ও দীর্ঘ কারাভোগের পরও আন্দোলনের মাঠ ছাড়েননি। নয়াপল্টনের কর্মসূচি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিওও একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের দলের তো কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি, শুধু নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। যিনি আমাদের কাছ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার অবর্তমানে যিনি সুদূর প্রবাস থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি এখন আমাদের কাছে চলে এসেছেন।’

মিছিলের শেষ ছেলেটিও মূল্যায়ন পাবে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে আলাল বলেন, ‘এখনই যদি আমরা মনে করি তিনি আমাদের ভুলে গেছেন, এটা ঠিক না। সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে; ধীরে ধীরে সবাইকে তিনি মূল্যায়ন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল

বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ঢাকা মহানগর বিএনপির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে ৬০০-এর বেশি মামলা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ছবি: সংগৃহীত

মাসের পর মাস আত্মগোপনে থেকেও এবং বারবার কারাবরণ করেও কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত রেখেছেন তিনি। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার দিন ১৪৪ ধারা ভেঙে হাজারো নেতাকর্মী নিয়ে বকশীবাজারের অস্থায়ী আদালত পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করার ঘটনাও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলোচিত অধ্যায়।

বিগত ১৫ বছরে কারাগারের বাইরে থাকা অবস্থাতেও তাঁর বড় একটি সময় কেটেছে আদালতপাড়া কিংবা আত্মগোপনে। প্রথমে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন এবং পরে মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় তাঁর অনুসারীদের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

আরও যারা বঞ্চিত

বিএনপির রাজপথের পরিচিত নেতাদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরবও অন্যতম। বিরোধী দলে থাকার সময় ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫৭টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। একাধিকবার কারাগারেও যেতে হয়েছে।

পরবর্তীতে ঢাকা-১২ আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক এই আহ্বায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারের পরও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে সাইফুল আলম নীরব  বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শে আমি রাজনীতি করি। বিএনপির বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বিএনপিতেই থাকতে চাই। আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলও গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় জায়গা পাননি। দলের দুঃসময়ে সংগঠন ধরে রাখা, কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন। প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সুর দেখা যায়।

ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজপথের আলোচিত নেতা। ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।

ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ সময় ঢাকার রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় তাঁর সঙ্গে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজীব আহসান, যিনি ২০২৬ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে পরে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছেন।

কিন্তু নরসিংদীর শিবপুর আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েও শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হন আকরামুল হাসান মিন্টু। বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদেও নেই তিনি।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনও গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের হামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হামলার শিকার হন তিনি। মগবাজারে তাঁর বাসার নিচেও হামলার ঘটনা ঘটে।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন তিনি। বিএনপি সরকার গঠন করার পরও ফ্রন্টলাইনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে তাঁকে দেখা যায়নি।

ফজলুর রহমান খোকন বলেন, ‘দল মাত্র সরকার গঠন করেছে। সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধীরে ধীরে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণও মনোনয়ন নিয়ে শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হন। হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শুরুতে গ্রেপ্তার হন তিনি। রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার কথাও তিনি বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরে তা হারান শ্রাবণ।

ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদীর রায়পুরা আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি তিনি।

যা বলছেন নেতারা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেননি। আবার অনেকে দীর্ঘদিন কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ত্যাগী নেতাকে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করবেন বলে বিশ্বাস করি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এমপি এশিয়া পোস্টকে বলেন, গত ১৭ বছরে নেতাকর্মীরা নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেকে আত্মগোপনে থেকেছেন, বাড়িঘর ছেড়ে জীবন কাটিয়েছেন। তাদের মূল্যায়ন হওয়া অবশ্যই দরকার।

তিনি বলেন, সাংগঠনিক দায়িত্ব, চুক্তিভিত্তিক সরকারি নিয়োগ ও স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়নের মাধ্যমে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের দুঃসময়ে জীবন বাজি রেখে যারা সংগঠন ও আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখেন, ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ও উৎসাহ বাড়ে। নতুন সরকারে কারিগরি দক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নতুন মুখকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের রাজপথের অভিজ্ঞ নেতাদের একটি অংশ মন্ত্রিসভার বাইরে থাকায় তৃণমূলে হতাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বুলেট, টিয়ারশেল, মামলা, হামলা ও কারাভোগের ঝুঁকি নিয়ে যারা বছরের পর বছর রাজপথ আঁকড়ে ধরে দলকে সক্রিয় রেখেছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কোথায়—এ প্রশ্ন এখন বিএনপির তৃণমূলের একটি অংশে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

দুঃসময়ে যারা ছিলেন সামনের সারিতে, সুসময়ে তাদের মূল্যায়ন কতটা—এখন সেটিই হয়ে উঠেছে বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনার নতুন প্রশ্ন।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।