ছবি: সারজিস আলমের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই উপকমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটরে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
দলীয় সূত্রে পরে জানানো হয়, উপকমিটিতে রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজন উপপ্রধান থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নিলে দলটির তহবিলে ১ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
সোমবার বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
রাশেদ খাঁনের পোস্টে রাজনৈতিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে এনসিপির অর্থায়ন ও জামায়াতের সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে এনসিপি জাতীয় নির্বাচন করেছে। তবে পোস্টে করা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
তিনি আরও লেখেন, স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে অর্থ না দিলে দলটিকে ‘গণভিক্ষা’ কর্মসূচিতে যেতে হতে পারে। একই সঙ্গে এনসিপি এককভাবে স্থানীয় নির্বাচন করলে তাদের ‘গণভিক্ষা তহবিলে’ ১ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
পোস্টের একপর্যায়ে রাশেদ খাঁন এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলামসহ দলটির নেতাদের নিয়েও কঠোর ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগও তোলেন। এসব অভিযোগের সমর্থনে পোস্টে কোনো নথি বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
রাশেদ খাঁন বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে বিএনপি ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
পোস্টের শেষদিকে তিনি দাবি করেন, বিএনপি এনসিপিকে জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল হিসেবে দেখতে রাজি না হওয়ায় এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে। তাঁর ভাষ্য, এতে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে উপকৃত হয়েছে।
এ ছাড়া এনসিপিকে ঘিরে ‘ক্ষমতার রাজনীতি’, দুর্নীতি ও অর্থপাচার নিয়ে আরও বিভিন্ন অভিযোগ ও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে রাশেদ খাঁনের এসব অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
