বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভার্গো টোব্যাকো, প্রভাবশালী আ.লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নকল ব্যান্ডরোলে সিগারেট উৎপাদন-বাজারজাত, অভিযানে দেয়াল টপকে কারখানায় ঢোকে ভ্যাট গোয়েন্দা দল।

নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে সাড়ে ৭২ কোটি টাকা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার তথ্য উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ২ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভার্গো টোব্যাকোর কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ভার্গো টোব্যাকো প্রতিষ্ঠা করেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সৈয়দা মাহবুব আক্তার। সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট ভাই। তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম নিজেও বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দার দুটি দল একযোগে ভার্গো টোব্যাকোর কারখানা ও একটি গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ রাখা হলেও ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। গোয়েন্দা দলের সদস্যরা বারবার গেট খোলার জন্য বললেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে দেয়াল টপকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন তারা।

ভেতরে ঢুকেই গোয়েন্দা দল দেখতে পায়, কারখানায় সিগারেট উৎপাদন চলছে। এ সময় কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তখন ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য দেখতে পান গোয়েন্দারা।

পোড়ানো সিগারেটের বিষয়ে দলিলাদি উপস্থাপন করতে বলা হলে সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে পারেননি। এসব পণ্য ধ্বংসের জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও তারা নিশ্চিত করেন।

পরে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার এক বিবৃতিতে জানান, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে ভ্যাট গোয়েন্দা দল।

অভিযানকালে কারখানা ও পাশের গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়।

জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন মেসেজ এবং হিসাবের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। প্রাথমিক বিশ্লেষণে তারা দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল দিয়েও গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল।

গোয়েন্দা দলের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ধরনের ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধার করা পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রাথমিক হিসাবে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

অভিযানে অংশ নেওয়া ভ্যাট গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা জানান, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে ভ্যাট গোয়েন্দা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।