বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফ্যাসিবাদী আমলের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের মামলায় নাম থাকার দাবি, বিএনপির শেল্টারে ফের সক্রিয়তার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কলসকাঠী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরুণ গাঙ্গুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং বিপুল অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারেও তার নাম রয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় সূত্র। সম্প্রতি বিএনপির শেল্টারে ফের সক্রিয় হওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পুরোনো প্রভাববলয় কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়ের নানা বিষয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন প্রধান শিক্ষক তরুণ গাঙ্গুলি। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র জানায়, তরুণ গাঙ্গুলির বাবা চঞ্চল গাঙ্গুলি কলসকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তরুণ গাঙ্গুলি তৎকালীন বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়ার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে দাবি সূত্রের।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়কার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন প্রধান শিক্ষক তরুণ গাঙ্গুলি। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডেও তার প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।

নিয়োগ ঘিরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

তরুণ গাঙ্গুলিকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সময়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী, নির্বাচিত প্রার্থীদের কাগজপত্র এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত, প্রার্থীদের যোগ্যতা, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

জুলাই আন্দোলনের মামলায় নাম থাকার দাবি

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবেও প্রধান শিক্ষক তরুণ গাঙ্গুলির নাম রয়েছে।

তবে কোনো মামলার এজাহারে নাম থাকা বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা নিজেই অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি যাচাই এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনারও দাবি উঠেছে স্থানীয় মহলে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রভাববলয়?

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তরুণ গাঙ্গুলির প্রভাব কমেনি। বরং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও রাজনৈতিক শেল্টার নিয়ে তিনি ফের সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট দলিল বা প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার এ দাবিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বক্তব্য দিতে রাজি নন প্রধান শিক্ষক

প্রধান শিক্ষক তরুণ গাঙ্গুলির বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অর্থ লেনদেন এবং জুলাই আন্দোলনের মামলাসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, নিয়োগে অর্থ লেনদেন এবং মামলা-সংক্রান্ত এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বোর্ডের কার্যবিবরণী, প্রার্থীদের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতার নথি, নিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তরফে জানানো হয়েছে, তরুণ গাঙ্গুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।