মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভালোবাসার ঘরেই নির্মম মৃত্যু: নির্যাতনের দগ্ধ শরীর, চিকিৎসা বঞ্চনায় নিভে গেলো মারিয়ার জীবন

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতীকী ছবি

বরিশালের বানারীপাড়ার নিস্তব্ধ দুপুরে নেমে এলো এক হৃদয়বিদারক শোক—যে ঘর হওয়ার কথা ছিল ভালোবাসার আশ্রয়, সেই ঘরই হয়ে উঠল এক তরুণীর মৃত্যুকূপ। স্বামীর নির্যাতন আর চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারালেন মারিয়া আক্তার (১৮), রেখে গেলেন এক অবুঝ শিশুর কান্না আর অসংখ্য প্রশ্ন।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু এই মৃত্যু ছিল না হঠাৎ—এ ছিল দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা, নির্যাতন আর অবহেলার করুণ পরিণতি।

মারিয়া—সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের চা দোকানি কবির হাওলাদারের মেয়ে। তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয় একই এলাকার রবিউল মৃধার সঙ্গে। ছোট্ট একটি সংসার, দুই বছরের এক কন্যাসন্তান—সব মিলিয়ে স্বপ্নের মতো এক জীবন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে নির্মম বাস্তবতায়।

স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা আর বিয়ের সময় প্রতিশ্রুত সোনার কানের দুলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই মারিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। মাদকাসক্ত স্বামীর অন্যায় আচরণে বাধা দিলেই নেমে আসত নির্দয় মারধর।

রোজার মাসেও থামেনি সেই নির্যাতন। বাবার বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিতে বলা হয় মারিয়াকে। অস্বীকার করতেই আবারো ঝরে পড়ে নির্যাতনের আগুন। গত ৪ এপ্রিল তাকে অমানবিকভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। কিন্তু চিকিৎসার বদলে তাকে ফেলে রাখা হয় অসহায়ের মতো।

অসুস্থ শরীর নিয়েও সংসারের কাজ করতে না পারায় দ্বিতীয় দফায় আবারও নির্যাতনের শিকার হন তিনি—যেন ভালোবাসার নামে এক অন্তহীন শাস্তি।

শেষ পর্যন্ত খবর পেয়ে তাঁর মা হাফিজা বেগম ঢাকায় ছুটে যান। বুধবার বেলা ১১টার দিকে মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে—জীবন তখন নিভে যাওয়ার শেষ প্রহরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবস্থার অবনতি ঘটে, আর বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন—মারিয়া আর নেই।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে নিথর মারিয়ার পাশে এখন শুধুই কান্না—এক মায়ের বুকফাটা আহাজারি, আর এক শিশুর নীরব প্রশ্ন— “মা, তুমি কেন আর ফিরবে না?”

এই মৃত্যু শুধু একটি জীবনের অবসান নয়, এটি এক সমাজের আয়না—যেখানে ভালোবাসার নামে এখনো লুকিয়ে থাকে সহিংসতা, আর নীরবতায় চাপা পড়ে যায় অসংখ্য মারিয়ার আর্তনাদ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।