দৌলতপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২ দোকান ও গোডাউনে হামলা, থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ। মাইকে ঘোষণা দিয়ে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনা মহলদার মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ছয় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফেরেন। এরপর স্থানীয় সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েকজন হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন।
এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে তাঁদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড হওয়ার সময় মূল দাগটি তিনটি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি ও তাঁদের মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। কবরস্থানের জমির সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই।
তাঁদের অভিযোগ, রাস্তাসংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ সৃষ্টি হলেও প্রতিপক্ষ জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
মসজিদের মাইকে ঘোষণা, একত্রিত হন গ্রামবাসী
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে একত্র করা হয়। এরপর তাঁদের দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় দোকান ও গোডাউনে থাকা মালামাল লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাঁদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, আমাদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন; কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই।
অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার
তবে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সোনা মহলদার। তিনি বলেন, ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা: পুলিশ
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ভাঙচুরের বিষয়টিও জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, রেকর্ড ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
