শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদকবিরোধী অভিযানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে, বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১২:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লার আশাবাড়ি সীমান্তে অভিযানের সময় ঘটনা, হস্তান্তরে বিজিবির তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে ভুলবশত ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন পুলিশের দুই সদস্য। পরে তাঁদের আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফের) হাতে তুলে দেওয়া হয়। আটক দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে তাঁদের কখন এবং কোথায় হস্তান্তর করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষুদে বার্তায় সমকালকে এসব তথ্য জানান ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন।

তিনি বলেন, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তবে কখন পতাকা বৈঠক হবে কিংবা কোথায় তাঁদের হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

যেভাবে আটক হন দুই পুলিশ সদস্য

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থানার পাঁচ কনস্টেবল ও একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওই অভিযানে অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক তাঁকে আটক করেন।

পরে টহল দলের নেতৃত্বে থাকা এএসআই ইমরান হোসেন কনস্টেবল রোহিত দেওয়ানকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাঁকেও আটক করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন জানান, পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএসএফ সদস্যদের ডেকে এনে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় টহল দলের অপর চার সদস্য নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবিকে বিষয়টি জানান।

ফিরিয়ে আনতে বিজিবির তৎপরতা

আটক দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ৬০ বিজিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের হস্তান্তরের বিষয়ে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। শুক্রবার দিনের যেকোনো সময় তাঁদের হস্তান্তর করা হতে পারে।

এর আগেও একই সীমান্তে ঘটেছিল ঘটনা

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকা চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল। এ এলাকায় অভিযান চালানোর সময় সীমান্তের অবস্থান চিহ্নিত করা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর সকালে একই এলাকার ২০৫৯ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে গিয়ে ভুলবশত ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে র‍্যাবের একটি দল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা র‍্যাবের সদস্য রিদান বড়ুয়া, আবদুল মজিদ ও ওয়াহিদকে আটক করে স্থানীয় একটি বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যান। তাঁদের সঙ্গে থাকা স্থানীয় দুই সোর্সকেও আটক করা হয়েছিল।

পরে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আট ঘণ্টা পর আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তর করা হয়।

এবার একই সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য আটক হওয়ার ঘটনায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।