বুধবার, ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহী নিষিদ্ধ যুবলীগে কমিটি গঠনের নামে ‘পদবাণিজ্য’

রাজশাহী প্রতিনিধি
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৪:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সহসভাপতি পদে ৫০ হাজার, সাধারণ সম্পাদক হতে লাখ টাকা দাবি; পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ। প্রতীকী ছবি

রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ জুন রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে মাহমুদ হাসান সজলকে সভাপতি এবং ইয়ামীছির আরাফাত সৈকতকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অবহেলা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঠিয়া-দুর্গাপুর সংসদীয় আসনে ভার্চ্যুয়াল সভায় রাজশাহী জেলার সব কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এরপরই জেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তৎপরতা শুরু করেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কমিটিতে ভালো পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোদাগাড়ী পৌর যুবলীগের এক নেতা অভিযোগ করেন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়ামীছির আরাফাত সৈকত তাঁর কাছে সহসভাপতি পদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। একইভাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুঠিয়া পৌর যুবলীগের এক সাধারণ কর্মীর কাছেও পুঠিয়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া রাজশাহী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান সজলের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পদ-পদবি দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ দাবি ও লেনদেনের এসব ঘটনায় সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পদবাণিজ্যের কারণে বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক বিভাজন এবং নতুন করে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

তাঁদের দাবি, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি গঠন হওয়ার কথা সাংগঠনিক যোগ্যতা, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে। সেখানে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু সংগঠনের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করবে না, বরং তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকেও দুর্বল করে তুলবে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাজশাহী জেলা যুবলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান সজলের সঙ্গে ০১৭১৭-০৮২৬৫৪ এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়ামীছির আরাফাত সৈকতের সঙ্গে ০১৭১৭-১৩৫৫৫৭ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে উভয় নম্বরে ফোন করলে বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।