মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাস্তার আশ্বাসে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ, পথ বন্ধের অভিযোগে বাড়িছাড়া ভারোত্তোলক আশরাফুলের পরিবার

মিয়াদুল ইসলাম
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজ বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ, চরম দুর্ভোগে ক্রীড়াবিদের পরিবার। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি। ফাইল ছবি

একটি স্বপ্নের বাড়ি। পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাসের প্রত্যাশা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের ঠিকানায় থাকার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু যাতায়াতের রাস্তা দেওয়ার আশ্বাসে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের পর সেই পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিজস্ব বসতবাড়িতে প্রবেশের স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে দেশবরেণ্য ভারোত্তোলন খেলোয়াড় আশরাফুল ইসলামের পরিবার।

মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়ায় ঘটেছে এ ঘটনা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখে সম্মান অর্জন করা একজন খেলোয়াড়কে এখন নিজের বাড়িতে বসবাসের অধিকার রক্ষায় লড়তে হচ্ছে। অভিযোগ, যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম গাংনী মাঠপাড়ার মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে।

রাস্তার আশ্বাসে জমি কেনা, দলিলেও উল্লেখ পথের

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের দিকে আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী রোজিনা খাতুন একই পাড়ার মৃত ফকির মোহাম্মদের ছেলে মাহবুব আলীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন শতক জমি কেনেন। জমির দাগ নম্বর ৪৯৬৫, খতিয়ান নম্বর ১১৬৩ এবং হোল্ডিং নম্বর ৬৫৪৪।

জমি কেনার পর নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন তাঁরা। নিয়মিত খাজনা ও খারিজও পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এমনকি জমির রেজিস্ট্রি দলিলের পশ্চিম পাশে রাস্তার উল্লেখ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমি কেনার সময় যাতায়াতের রাস্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিক্রেতা মাহবুব আলী। সেই আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেই জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন আশরাফুল। কিন্তু বাড়ি নির্মাণের পর এখন সেই রাস্তা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তিনি।

নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথ বন্ধ, বাড়িছাড়া পরিবার

নিজস্ব জমিতে বাড়ি থাকলেও সেখানে যাতায়াতের পথ না থাকায় প্রতিদিনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে আশরাফুলের পরিবারের। প্রয়োজনীয় কাজকর্ম, পারিবারিক জীবন ও নিরাপদে বসবাস—সবকিছুই পড়েছে চরম সংকটে।

পরিবারটির অভিযোগ, যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজেদের বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে তাঁদের।

একটি বাড়ি মানুষের কাছে কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও অসংখ্য স্মৃতি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সেই বাড়িতে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশরাফুলের পরিবার এখন চরম দুর্ভোগের মুখে।

দেশের জন্য সম্মান, নিজের বাড়িতে বসবাসের নিশ্চয়তা নেই

আশরাফুল ইসলাম দেশের ভারোত্তোলন অঙ্গনের পরিচিত মুখ। খেলাধুলার মাঠে নিজের মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন তিনি। অথচ ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ অবদানের পরও নিজের বসতবাড়িতে বসবাসের নিশ্চয়তা না পাওয়ার অভিযোগ তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

একজন ক্রীড়াবিদের জীবনের বড় অর্জন যেমন দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, তেমনি নিজের পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করাও তাঁর মৌলিক প্রত্যাশা। কিন্তু রাস্তার আশ্বাসে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের পর যাতায়াতের পথ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় সেই প্রত্যাশা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি

এলাকাবাসীর মতে, জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে যাতায়াতের রাস্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। রাস্তার আশ্বাসে কেউ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের পর যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেলে তা একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে জমির দলিল, মৌজা নকশা, রাস্তার অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। জমির মালিকানা ও যাতায়াতের অধিকার নিয়ে উদ্ভূত বিরোধের আইনসম্মত সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

আশরাফুল ইসলামের পরিবারের দাবি, তাঁরা বাড়তি কোনো সুবিধা চান না। কেবল নিজেদের বাড়িতে যাতায়াতের স্বাভাবিক ব্যবস্থা এবং নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ চান। যে আশ্বাসের ওপর ভরসা করে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন, তার ন্যায়সংগত সমাধান চান তাঁরা।

অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহবুব আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, একজন ক্রীড়াবিদের পরিবারের এমন দুর্ভোগের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবারটি আবারও নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখা একজন খেলোয়াড়ের নিজের বাড়িতে বসবাসের অধিকার নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাস্তার আশ্বাসে কেনা জমিতে বাড়ি নির্মাণের পর যদি যাতায়াতের পথ নিয়েই বিরোধ তৈরি হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের আবাসন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

নিজের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় এখন আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। আপন ঠিকানায় গড়ে তোলা সেই বাড়িতে আবারও স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপই পারে এই দীর্ঘ দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।