সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো, কেমোথেরাপি ছাড়াই সুস্থতার পথে লাখো রোগী

অনলাইন ডেস্ক
মে ৩১, ২০২৬ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্তন ক্যান্সার মানেই দীর্ঘ চিকিৎসা, কেমোথেরাপির কঠিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আর অনিশ্চয়তায় ভরা এক যাত্রা। তবে এবার সেই চিরচেনা গল্পে আশার নতুন অধ্যায় যোগ করলেন একদল আন্তর্জাতিক গবেষক। তাদের দাবি, বিশেষ এক ডিএনএ পরীক্ষা ভবিষ্যতে লাখ লাখ স্তন ক্যান্সার রোগীকে কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ইংল্যান্ডের University College London (UCL)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেছে BBC। গবেষণায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের ৪০ বছরের বেশি বয়সী চার হাজারেরও বেশি স্তন ক্যান্সার রোগী অংশ নেন।

গবেষণার ফল যেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের আকাশে এক উজ্জ্বল বার্তা হয়ে এসেছে। দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী রোগীদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি ছাড়াই শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

কেমোথেরাপির নাম শুনলেই অনেক রোগীর মনে ভেসে ওঠে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল ঝরে যাওয়া, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের ছবি। অথচ নতুন এই পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা আগেভাগেই বুঝতে পারবেন কার ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সত্যিই প্রয়োজন, আর কার জন্য তা অপ্রয়োজনীয়।

গবেষকরা এই পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘প্রোসিগনা’ (Prosigna)। অত্যাধুনিক এই ডিএনএ পরীক্ষায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ জিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়, যেগুলো ক্যান্সারের বিস্তার ও পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। পরীক্ষার ফলাফলে রোগীরা একটি স্কোর পান, যা চিকিৎসার পরবর্তী পথ নির্ধারণে সহায়তা করে।

যাদের স্কোর কম ছিল, তাদের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রোগীদের পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ—যা খুব সামান্য পার্থক্য নির্দেশ করে।

সাধারণত স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হয়। এরপর রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। কিন্তু গবেষকদের মতে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত চিকিৎসা খুব সীমিত উপকার এনে দেয়, অথচ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বোঝা বহুগুণ বেশি।

ইউসিএলের হিসাব অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাজ্যের National Health Service (এনএইচএস)-এর আওতায় থাকা পাঁচ হাজারের বেশি রোগী ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এই গবেষণার একজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন কার্ডিফের ৬৪ বছর বয়সী কারেন বনহ্যাম। ‘প্রোসিগনা’ পরীক্ষার ফলের কারণে তিনি কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা নিতে সক্ষম হন। গত আট বছর ধরে তিনি রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি গ্রহণ করেছেন।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কারেন বলেন, এই ফলাফল তার কাছে ছিল “বড়দিনের উপহার” পাওয়ার মতো। ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার মুহূর্ত জীবনকে বদলে দেয়, সবকিছু অনিশ্চিত মনে হয়। কিন্তু এই পরীক্ষার কারণে তিনি নতুন করে স্বস্তি ও আশার আলো দেখতে পেয়েছেন।

গবেষণার প্রধান, ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ Rob Stein বলেন, এই গবেষণা ক্যান্সার চিকিৎসাকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও নির্ভুল করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। শুধু রোগের বাহ্যিক লক্ষণ নয়, টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, এর ফলে বহু রোগী কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক ধকল থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্পদেরও আরও কার্যকর ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

গবেষণার ফলাফল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্যান্সারবিষয়ক সম্মেলন American Society of Clinical Oncology Annual Meeting-এ উপস্থাপন করা হবে।

তবে গবেষকদের সতর্ক মন্তব্যও রয়েছে। ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও কয়েক বছরের গবেষণা প্রয়োজন হবে।

তবু বলা যায়, স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত—যেখানে চিকিৎসা হবে আরও নির্ভুল, আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, আর হাজারো রোগীর পথ থেকে সরে যেতে পারে কেমোথেরাপির দীর্ঘ ও কষ্টকর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।