বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৯ বছর একই চেয়ারে জাগৃকের মিরাজ ১৭ কোটি টাকার লিফট কেনা হচ্ছে ৪৯ কোটিতে

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৭:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কোনোভাবেই থামছে না ঘুষ বাণিজ্য! চট্টগ্রাম বিআরটিএতে রাজস্ব কর্মকর্তা সলিম উল্যাহকে ঘিরে ‘সিন্ডিকেট’—সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে দালালচক্রের দাপট। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য থামছেই না—এমন অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালচক্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর উঠেছে বিআরটিএর জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহর দিকে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ তাকে বিআরটিএতে ‘গডফাদার’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।

ঘুষ ছাড়া ‘ফাইল নড়ে না’—ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস কিংবা রুট পারমিট—কোনো সেবাই ঘুষ ছাড়া সহজে পাওয়া যায় না। অফিসের বাইরে অবস্থান করা দালালদের মাধ্যমে চলে প্রকাশ্য লেনদেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সেবার জন্য অলিখিতভাবে নির্দিষ্ট ‘রেট’ নির্ধারিত রয়েছে।

রুট পারমিট: নতুন বাসের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং নবায়নে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।

মালিকানা পরিবর্তন: প্রতি গাড়িতে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।

ফিটনেস: সিএনজির জন্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাকের জন্য ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং হিউম্যান হলারের জন্য ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স: নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার চুক্তি বাধ্যতামূলক—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। টাকা না দিলে পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ফেল’ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

‘পুরনো গডফাদার’—পরিবহন শ্রমিক নেতার অভিযোগ

এক পরিবহন শ্রমিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সলিম উল্যাহ এই অফিসের পুরনো গডফাদার। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তার সব অপকর্ম বারবার ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে ওই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দুর্নীতির অভিযোগে কোটি কোটি টাকার সম্পদের দাবি

সলিম উল্যাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, নগরীর লালখান বাজার এলাকায় তার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকার দাবিও করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে তার স্ত্রীর নামে বড় অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও বৈধতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দুদকের অভিযানে ঘুষের প্রাথমিক সত্যতা

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগের মধ্যে সম্প্রতি বিআরটিএর এই বিভাগীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযানে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালক জানান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফোন বন্ধ, বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সলিম উল্যাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযান নয়, ‘সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের’ শাস্তির দাবি

বিআরটিএ কার্যালয়ে নিয়মিত সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত।

সেবাপ্রার্থীদের দাবি, বিআরটিএকে প্রকৃত অর্থে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এখন দেখার বিষয়, দুদকের চলমান তদন্তে সলিম উল্যাহ ও কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কতটা সত্যতা পাওয়া যায় এবং তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ