বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিযোগের পরও কংস নদীতে বালু উত্তোলন, অভিযোগ-ভিডিও পাঠানোর পরও দিনভর ড্রেজার, পূর্বধলা না দুর্গাপুর—দায়িত্ব কার?

মামুনুর রশীদ মামুন
অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। ফাইল ছবি

নেত্রকোনায় পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের মাইজপাড়া ও দুর্গাপুর উপজেলার নগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী কংস নদী থেকে অনুমতিবিহীনভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে একটি ব্যবসায়ী মহল ড্রেজারজাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করে ওই এলাকা থেকে নিয়মিত বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ মঙ্গলবার সকালে লিখিত অভিযোগ ও ভিডিওচিত্র পাঠানোর পরও দিনভর বালু উত্তোলন চলতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ঘটনাটি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক এখতিয়ার নিয়েও। পূর্বধলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীটি দুর্গাপুর উপজেলার সীমানায় বলে জানানো হলেও অভিযোগের স্থানটি পূর্বধলার মাইজপাড়া ও দুর্গাপুরের নগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী নদী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগ পাওয়ার পর কোন প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করবে—দিনের শেষ পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

অভিযোগ, ভিডিও—তারপরও থামেনি বালু তোলা

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক, পূর্বধলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দুর্গাপুরের ইউএনওর হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়।

অভিযোগের সঙ্গে প্রায় ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওচিত্রও সংযুক্ত করা হয়। সেখানে ঘটনাস্থল হিসেবে পূর্বধলার জারিয়া ইউনিয়নের মাইজপাড়া ও দুর্গাপুর উপজেলার নগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী কংস নদীর কথা উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগ পাঠানোর পরও দিনভর ওই এলাকায় বালু উত্তোলন কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—লিখিত অভিযোগ ও ভিডিওচিত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে যাচাই বা দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?

‘আমি নতুন এসেছি, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি’

অভিযোগ পাওয়ার পর পূর্বধলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্থানীয় তথ্যদাতাকে বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি—তারপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তবে সন্ধ্যায় পূর্বধলার ইউএনওর পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানানো হয়, পূর্বধলা উপজেলায় কংস নদী নেই; নদীটি দুর্গাপুর উপজেলার সীমানায়।

এরপর অভিযোগকারী জানতে চান, বিষয়টি দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কি না অথবা সকালে পাঠানো অভিযোগটি দুর্গাপুর প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না।

জবাবে তাকে দুর্গাপুরের ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে দুর্গাপুরের ইউএনওর কাছে সকালে পাঠানো অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোথায় পাঠিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপে ঠিক আছে—দেখছি।

এতে অভিযোগের স্থানটি কোন উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি আওতাধীন এবং অভিযোগটি কে সরেজমিনে যাচাই করবে—এ নিয়ে দিনের শেষ পর্যন্ত স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা জানান।

জেলা প্রশাসকের কাছে তথ্য, পদক্ষেপের আশ্বাস

অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান। তিনি বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে ওই আশ্বাসের পরও ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলন বন্ধ, সরেজমিন তদন্ত, ইজারা-সংক্রান্ত নথি যাচাই কিংবা ব্যবহৃত যন্ত্রের বৈধতা পরীক্ষা—এ ধরনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখনো লক্ষ্য করা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

আসল প্রশ্ন—কংস নদীর ওই অংশ কার?

ঘটনাটি তদন্তের ক্ষেত্রে প্রথমেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন, কংস নদীর যে অংশ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সেটি প্রশাসনিক ও রাজস্বগতভাবে কোন উপজেলার আওতাধীন।

পূর্বধলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীটি দুর্গাপুর উপজেলার সীমানায় বলে জানানো হলেও অভিযোগের স্থানটি দুই উপজেলার মাইজপাড়া ও নগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী নদী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই সরকারি রেকর্ড, মৌজা ম্যাপ, রাজস্ব সীমানা এবং প্রয়োজনীয় সরেজমিন পরিমাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নদী অংশের অবস্থান নির্ধারণ করা জরুরি।

বৈধ বালুমহাল, নাকি অনুমতিহীন উত্তোলন?

তদন্তে আরও দেখতে হবে, অভিযোগের স্থানটি সরকারি ঘোষিত কোনো বালুমহালের অন্তর্ভুক্ত কি না।

যদি বালুমহাল হয়ে থাকে, তাহলে—

১. বর্তমানে সেখানে বৈধ ইজারা রয়েছে কি না।

২. ইজারাগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম কী।

৩. ইজারার মেয়াদ কতদিন।

৪. নির্ধারিত সীমানা কোথায়।

৫. ইজারার শর্ত কী।

অভিযোগের স্থানটি ওই ইজারার সীমানার মধ্যে পড়ে কি না—এসব বিষয় সরকারি নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বালু উত্তোলন বৈধ হলেও ব্যবহৃত পদ্ধতি ও যন্ত্র অনুমোদিত কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগে ড্রেজারজাতীয় যন্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ফলে ব্যবহৃত যন্ত্রটির ধরন, মালিকানা, পরিচালনার অনুমোদন এবং ইজারা বা সরকারি অনুমতির শর্তের সঙ্গে এর ব্যবহার সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এসবও সরেজমিনে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

‘অর্ধকোটি টাকার বালু’—দাবির সত্যতা কতটুকু?

স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ দিনে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হয়েছে এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

তবে উত্তোলিত বালুর প্রকৃত পরিমাণ, বাজারমূল্য কিংবা সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রতিবেদকের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ক্ষেত্রে গত কয়েক দিনে কতবার বালু উত্তোলন ও পরিবহণ করা হয়েছে, কী পরিমাণ বালু উত্তোলন হয়েছে এবং উত্তোলিত বালুর পরিবহণ ও বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট নথি, সরেজমিন পরিমাপ এবং প্রশাসনিক যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

নদীভাঙন-পরিবেশের ক্ষতিও দেখতে হবে

শুধু বালু তোলা হচ্ছে কি না—তদন্তকে সেখানে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, তীরবর্তী জমি, ঘরবাড়ি, ফসল কিংবা স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা বা বাস্তব প্রভাব তৈরি হয়েছে কি না, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কারিগরি সহায়তায় তা যাচাই করা যেতে পারে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এ বালুমহাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নদীভাঙন, ঘরবাড়ি, স্থাপনা, গাছপালা, ফসল এবং পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয় বিবেচনার বিধান রয়েছে।

সরকারি মালিকানাধীন উন্মুক্ত স্থান বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি আহরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বালুমহাল ঘোষণা ও ইজারা দেওয়ার বিধান রয়েছে। বালুমহাল চিহ্নিতকরণ ও ঘোষণার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তার পরিদর্শন, ট্রেসম্যাপ ও তফসিলসহ প্রতিবেদন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের বিধান রয়েছে।

অতএব, নদী থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে কি না—শুধু সেটি দেখলেই তদন্ত শেষ হওয়ার সুযোগ নেই। সরকারি নথিতে ওই স্থানের অবস্থান, বালুমহাল ঘোষণা, ইজারা, ইজারার সীমানা ও শর্ত এবং বাস্তবে যে পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন হচ্ছে—এসবের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

৩৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ—প্রমাণ মেলেনি

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে। সূত্রের ভাষ্য, অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারীদের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা তারা শুনেছেন।

তবে এ দাবির পক্ষে প্রতিবেদকের কাছে কোনো নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্বাধীনভাবেও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফলে ৩৫ লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগকে কোনোভাবেই প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত একটি অভিযোগমাত্র।

এ বিষয়ে দুর্গাপুরের ইউএনওর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালে পাঠানো অভিযোগটি হোয়াটসঅ্যাপে পেয়েছেন কি না, তা দেখে জানানোর কথা বলেন। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ বিষয়ে এই প্রতিবেদনের জন্য তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের পরও চলল কার্যক্রম—জবাবদিহি কোথায়?

ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—মঙ্গলবার সকালেই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ ও ভিডিওচিত্র পাঠানো হয়েছিল। এরপর অভিযোগটি কীভাবে গ্রহণ ও যাচাই করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন কি না—তা এখন স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বালু উত্তোলনের কাজ চলমান। ছবি: সমতল মাতৃভূমি

অভিযোগের স্থান যদি বৈধ বালুমহালের আওতাভুক্ত হয়, তাহলে ইজারার নথি, সীমানা ও উত্তোলনের শর্তের সঙ্গে বাস্তব কার্যক্রম মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আর যদি বৈধ ইজারা বা অনুমোদন না থাকে, তাহলে অভিযোগ পাওয়ার পরও দিনভর কার্যক্রম চলতে থাকার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

পূর্বধলা না দুর্গাপুর—সীমানার জট খুলবে কে?

পূর্বধলা ও দুর্গাপুর প্রশাসনের মধ্যে এখতিয়ার নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সেটিও সরকারি রেকর্ডের ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

নদীর কোনো অংশ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হলে দায়িত্ব কার—এ নিয়ে প্রশাসনিক অস্পষ্টতা যেন অভিযোগ যাচাই বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্বের কারণ না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী মহলকে লক্ষ্য করে নয়; নদী, পরিবেশ, সরকারি রাজস্ব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থে এর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

তাদের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পূর্বধলা ও দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা হবে।

প্রয়োজনে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কারিগরি সহায়তায় নদীর সীমানা, অবস্থান এবং বালু উত্তোলনের প্রভাব যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ৩৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি রয়েছে কি না, সেটিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে তদন্তে অভিযোগের কোনো অংশের সত্যতা না মিললে সেটিও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জরুরি

সব মিলিয়ে কংস নদীর মাইজপাড়া-নগুয়া এলাকার ওই নির্দিষ্ট অংশটি—

কোন প্রশাসনিক ও রাজস্ব সীমানার মধ্যে?

এটি কি ঘোষিত বালুমহাল?

বালুমহাল হলে কার ইজারায়?

ইজারার মেয়াদ কতদিন?

কোন শর্তে বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে?

বাস্তবে যে স্থানে বালু তোলা হচ্ছে, সেটি কি ইজারার সীমানার মধ্যে?

ড্রেজারজাতীয় যন্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন আছে কি না?

অভিযোগ ও ভিডিওচিত্র পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

এবং ৩৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি আছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান বা স্থানীয় গুঞ্জনে নয়, সরকারি নথি, সরেজমিন তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

অভিযোগের সত্যতা থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সত্যতা না থাকলে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই কংস নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর একটি আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি এখন প্রয়োজন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।