আত্মগোপনে ছিলেন সুমন, একা নাকি অন্য কেউ জড়িত, জিজ্ঞাসাবাদে মিলবে তথ্য। অটোরিকশা চালক সুমন। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডে তিনি একাই জড়িত, নাকি এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বরের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালাতেন সুমন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ওই শিক্ষার্থী। তবে মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়েছিল। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।
এরপর ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে ওই শিক্ষার্থীকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা গেছে। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজেও তাকে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে সে সড়কের দিকে চলে গেলে ক্যামেরায় তার আর কোনো গতিবিধি ধরা পড়েনি।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তার মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানায়। একই সঙ্গে তাকে উদ্ধারের অনুরোধও করে। তবে ওই সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ভোরে মেয়ের পাঠানো বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
তদন্তের পরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
