গ্যালারিতে শাকিরা ও তার ছেলে মিলান
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির একটি দৃশ্য ইন্টারনেট দুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তোলে। ডালাস স্টেডিয়ামের লাক্সারি বক্সে বসা বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরার গালে এক ‘রহস্যময়’ ব্যক্তির চুম্বনের দৃশ্য ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে দ্রুতই সেই রহস্যের জট খোলে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা নিশ্চিত করেছে, শাকিরার গালে চুমু খাওয়া কিশোরটি আর কেউ নন; শাকিরার ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে মিলান।
সেদিন ম্যাচ চলাকালীন কলম্বিয়ান সুপারস্টারের দিকে যখন টেলিভিশনের ক্যামেরাগুলো তাক করা হয়, তখন দর্শকরা দেখতে পান- তার বাম পাশে বসে থাকা একজন ব্যক্তি তার গালের কাছে ঝুঁকে এসে স্নেহের চুম্বন করছেন। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং ওই ব্যক্তির মুখ কিছুটা অস্পষ্ট থাকার কারণে ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
লাইভ সম্প্রচারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই ঘটনার ক্লিপগুলো এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ব্যক্তি আসলে কে ছিলেন সে সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকায়, ভক্তরা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন। ঘটনার একটি ভিডিওর সাথে একটি ফ্যান অ্যাকাউন্ট প্রশ্ন তোলে, ‘শাকিরা কি ঠিক আছেন’ অন্য একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘শাকিরাকে জোর করে চুম্বন করার চেষ্টা করা এই লোকটি কে?’
যাইহোক, ইন্টারনেটের সম্মিলিত এই উদ্বেগ যেভাবে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই দ্রুত উধাও হয়ে যায়। দ্য ডেইলি মেইল পরে নিশ্চিত করে, ওই ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ আসলে অন্য কেউ নন, বরং শাকিরার বড় ছেলে ১৩ বছর বয়সী মিলান। একটি সাদা বেসবল ক্যাপ এবং কালো পোলো শার্ট পরা এই কিশোরটি ক্যামেরার দৃষ্টি থেকে আংশিকভাবে আড়ালে ছিল; যার ফলে সম্প্রচারে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
ভক্তরা যখন বুঝতে পারেন যে, এই অঙ্গভঙ্গিটি কেবল মা ও ছেলের মধ্যকার স্নেহপূর্ণ মুহূর্ত ছিল, তখন পুরো প্রেক্ষাপটটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ভক্ত লেখেন, ‘কী চমৎকার একটি পারিবারিক মুহূর্ত!’ অন্য একজন যোগ করেন, ‘শাকিরা তার দুই কলিজার টুকরোর সঙ্গে ভালোবাসায় জড়িয়ে আছেন।
শাকিরা তার দুই ছেলে মিলান ও শাশাকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। এই ছেলেরা ৪৯ বছর বয়সী গায়িকা এবং সাবেক স্প্যানিশ ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকের সন্তান। এই তারকা জুটি ১১ বছরের সম্পর্কের পর ২০২২ সালে আলাদা হয়ে যান; যার পর শাকিরা সন্তানদের কাস্টডি পান। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে তিনি মিয়ামিতে বসবাস করছেন।
বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সংযোগ অত্যন্ত গভীর। তিনি ২০১০ সালের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যান্থেম (থিম সং) ‘ওয়াকা ওয়াকা’-এর মিউজিক ভিডিও চিত্রায়নের সময় পিকের সঙ্গে পরিচিত হন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ফুটবলের অন্যতম সেরা মিউজিক্যাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে রয়ে গেছেন। টেক্সাসে পৌঁছানোর আগে, তিনি মেক্সিকো সিটিতে একটি জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অফিসিয়াল অ্যান্থেম ‘দাই দাই’ পরিবেশন করে ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টের সূচনা করেছিলেন।
