গতকাল মঙ্গলবার চীনের বেইজিংয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না আয়ােজিত ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে অতিথিরা ফটাে রিলিজ
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বছরে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য। কিন্তু কম্বোডিয়া-শ্রীলঙ্কার মতো তুলনামূলক কম বাণিজ্যের দেশে চীনা ব্যাংকের উপস্থিতি থাকলেও বাংলাদেশে কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। এই ব্যবধান ঘুচাতে এবং চীনের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ডে’। গতকাল মঙ্গলবার ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ আয়োজন করে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না। ইনভেস্ট বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না। এগুলো সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চারটি ব্যাংকের তিনটি। এ ছাড়া অংশ নেয় অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস, স্মার্ট ও শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি চীনা কোম্পানি।
প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং ও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার-বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে এখনও কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম চালাচ্ছে না। চীনের সঙ্গে কাছাকাছি বা কম বাণিজ্য রয়েছে– এমন দেশ কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে চীনা ব্যাংক কাজ করছে।
বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগও তুলে ধরা হয়। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া নেটওয়ার্কিং পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরের ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়ন, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণও এই প্রয়োজনের কথা বলে।
