বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাকফুল ও প্যান্টের নকশায় উদ্‌ঘাটিত ধর্ষণ-হত্যার রহস্য, গ্রেপ্তার ২

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিখোঁজের ছয় দিন পর নদীতে মিলেছিল মরদেহ, প্রায় দুই মাসের তদন্তে শনাক্ত পরিচয় ও অভিযুক্তরা। প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটের মোংলায় এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ছয় দিন পর খুলনার কাজিবাছা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে একটি নাকফুল ও প্যান্টের নকশা। একই থান কাপড় থেকে তৈরি দুটি প্যান্টের নকশার মিল এবং নাকফুল দেখে স্বজনেরা নিশ্চিত করেন মরদেহটি আসমা বেগমের (৩৯)।

প্রায় দুই মাসের তদন্ত শেষে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খুলনার দাকোপ উপজেলার ইকরামুল শেখ (৪০) ও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মো. মীর আলীকে (৪৮)। তাঁদের কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাঁদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত আসমা বেগম মোংলা উপজেলার মালগাজী এলাকার আব্দুল জবেদ আলীর মেয়ে। তিনি মোংলার বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন। তাঁর ১৭ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

যেভাবে উদ্‌ঘাটিত হলো হত্যার রহস্য

মোংলা থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, গত ১৪ আগস্ট মোংলার ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আসমা। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ওই দিন আসমাকে ফুসলিয়ে খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে নিয়ে যান ইকরামুল ও মীর আলী। সেখানে ইকরামুলের বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে আসমাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

প্যান্টের নকশা ও নাকফুলেই মিলল পরিচয়

আসমা নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর খুলনার বটিয়াঘাটা থানার কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। মরদেহের ছবি বেতার বার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন থানায় পাঠানো হলে মোংলা থানা পুলিশ আসমার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে তদন্ত শুরু করে।

ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্তরা। ফাইল ছবি

তদন্তের একপর্যায়ে মরদেহের পরনে থাকা প্যান্টের ছবি আসমার পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয়। ছবিতে প্যান্টটির রং ও নকশার সঙ্গে তাঁদের বাসায় থাকা আরেকটি প্যান্টের হুবহু মিল পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, প্যান্ট দুটি একই থান কাপড় থেকে তৈরি করা হয়েছিল।

এর পাশাপাশি মরদেহের নাকে থাকা নাকফুল দেখে স্বজনেরা আসমাকে শনাক্ত করেন। প্যান্টের নকশা ও নাকফুলের সূত্র ধরেই অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পথ খুলে যায়।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার দুইজন

আসমার পরিচয় শনাক্তের পর সন্দেহভাজনদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালায় পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার দাকোপ থেকে ইকরামুল শেখ এবং মোংলা থেকে মো. মীর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইকরামুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসমার চায়ের দোকানে নিয়মিত যাতায়াতের সূত্রে অভিযুক্ত দুজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পরই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হানিফ উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।