রাতের আঁধারে দুটি পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, পথে বসার আশঙ্কায় দুই মৎস্যচাষি। চার বিঘা জমিতে খনন করা দুটি পুকুরে এ মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে। ফাইল ছবি
পাবনার সুজানগর পৌরসভার চরমানিকদীরে পূর্বশত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ১০ লাখ টাকার বেশি মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই মৎস্যচাষির স্বপ্ন ও জীবিকার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোররাতের দিকে পৌরসভার চরমানিকদীর এলাকায় চার বিঘা জমিতে খনন করা দুটি পুকুরে এ মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবোর মোল্লা ও সেলিম মোল্লা অভিযোগ করে জানান, বাড়ির পাশের চার বিঘা আয়তনের দুটি পুকুর মঞ্জু মণ্ডলের কাছ থেকে বছরে ৭০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে তারা মাছ চাষ করে আসছিলেন। মাছ চাষই ছিল তাদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন।
তাদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা পুকুর দুটিতে বিষ প্রয়োগ করে। এতে পুকুরে থাকা মাছের পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত মাছের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি বলে দাবি করেন তারা।
এবোর মোল্লা ও সেলিম মোল্লা বলেন, স্থানীয় ব্র্যাক অফিস থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তারা মাছ চাষ করেছিলেন। মাছ মরে যাওয়ায় এখন ঋণের টাকা পরিশোধসহ সংসার চালানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তারা।
তাদের ভাষায়, আমাদের পথে বসিয়ে দিল, আমাদের বাঁচার আর কোনো অবলম্বনই থাকল না।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবোর মোল্লা ও সেলিম মোল্লা মাছ চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। মাছ বিক্রির আয় দিয়ে তারা সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও জোগান। পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় তারা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর জানান, মৎস্যচাষিদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
