বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বন্ডের ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামালের হদিস নেই, ঝুঁকিতে ৯ কোটি টাকার রাজস্ব

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাহাড়তলীর জ্যাস অ্যাকসেসরিজে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান। গুদামে থাকার কথা ১৯.২০ লাখ কেজি, মিলেছে মাত্র ৫.৮৫ লাখ। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বন্ডেড এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। হিসাব অনুযায়ী গুদামে থাকার কথা ছিল ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল। কিন্তু সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।

ফলে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের হদিস নেই। সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, নিখোঁজ এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিষ্ঠানটির ৫৯০, কর্নেল জোন্স রোড, উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ঠিকানার কারখানা ও বন্ডেড গুদামে পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম চালানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিপিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে।

পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড গুদামে থাকা কাঁচামালের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্য অনুযায়ী, বন্ডেড গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া যায় মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।

অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী মজুত থাকার কথা থাকলেও ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল গুদামে পাওয়া যায়নি। বিপুল পরিমাণ এই কাঁচামালের ঘাটতির বিষয়টি এখন তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

কোথায় গেল বিপুল কাঁচামাল?

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল কীভাবে গায়েব হলো—এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কাঁচামালগুলো অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আমদানি-রপ্তানি তথ্য, অনলাইন ব্যবহার অনুমোদন এবং গুদামের প্রকৃত মজুতসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে ঘাটতির প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।