সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিরামপুরের কল্যাণপুর গ্রামে নাগরিক সুবিধার আকাল

তাজ উদ্দীন
অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৭:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিরামপুর বেহাল সড়ক, অরক্ষিত ঈদগাহ ও কবরস্থান—চরম দুর্ভোগে ১,৮০০ মানুষ। ছবি: সমতল মাতৃভূমি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৫ নম্বর বিনাইল ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে নাগরিক সুবিধার তীব্র সংকট। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা, অরক্ষিত ঈদগাহ মাঠ এবং কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন এলাকাবাসী। বর্ষা এলেই কাদামাটিতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে; ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, বাড়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ঝুঁকি।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে পৃথক দুটি স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, অবহেলিত কল্যাণপুর গ্রামের উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কই দুর্ভোগের প্রধান কারণ

গ্রামবাসীর দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান ভরসা প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা মেঠোপথ। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দক্ষিণে প্রধান সড়ক হয়ে কল্যাণপুর উত্তরপাড়া পেরিয়ে রামকৃষ্ণপুর স্কুল মাঠসংলগ্ন পাকা সড়ক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এবং আদিবাসীপাড়া পর্যন্ত আরও ৫০০ মিটার রাস্তা এখনো কাঁচা রয়েছে।

চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষের। ফাইল ছবি

এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষের যাতায়াতের এই সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে সাইকেল চালানো তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় জরুরি প্রয়োজনে। বেহাল সড়কের কারণে মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের অবস্থার কারণে অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।

এদিকে কাদামাখা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজে যাতায়াতও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসানে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সিসি ঢালাই অথবা পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

অরক্ষিত ঈদগাহ মাঠ, ব্যাহত হচ্ছে পবিত্র পরিবেশ

গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি ধর্মীয় অবকাঠামোর অবস্থাও নাজুক। কল্যাণপুর উত্তরপাড়ায় প্রায় ১০ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত ঈদগাহ মাঠটিতে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট কিংবা মিনার। ফলে মাঠটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমানাপ্রাচীর না থাকায় গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন গবাদিপশু, এমনকি শূকরও মাঠে প্রবেশ করে মলমূত্র ত্যাগ করে। এতে ঈদগাহ মাঠের পবিত্র পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠটি অসমতল হওয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয়দের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, মিনার স্থাপন ও প্রবেশগেট নির্মাণে আনুমানিক সাত লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত ঈদগাহ মাঠটি সুরক্ষিত ও ব্যবহার উপযোগী করা হবে।

কবরস্থানের সুরক্ষায়ও প্রয়োজন জরুরি উদ্যোগ

শুধু সড়ক ও ঈদগাহ মাঠ নয়, কল্যাণপুর উত্তরপাড়া কবরস্থানের সুরক্ষা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে এলাকাবাসীর। কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ও গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

কল্যাণপুর উত্তরপাড়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা বিরাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

দ্রুত উন্নয়ন চান এলাকাবাসী

কল্যাণপুর গ্রামের মানুষের প্রত্যাশা, তাঁদের আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন এবং কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ও গাইড ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে—এমনটাই আশা তাঁদের।

এলাকাবাসীর বিনীত আবেদন, বিশেষ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অবহেলিত কল্যাণপুর গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হোক। নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবেন—এমন প্রত্যাশা গ্রামবাসীর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।