নারায়ণগঞ্জে ফের পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মাত্র ৫২ দিনের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
আজ শুক্রবার ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।
পুলিশ সূত্র জানায়, মদনগঞ্জ ফাঁড়ির এএসআই সোহেল, কনস্টেবল ফয়সাল ও কনস্টেবল মিজানুর টহল ডিউটিতে থাকা অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একটি ছিনতাইয়ের কল পান। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে পাশের একটি সন্দেহজনক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই সেখানে অবস্থানরত দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে এএসআই সোহেলের পায়ে এবং কনস্টেবল ফয়সালের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশের একটি শটগান ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কনস্টেবল ফয়সালকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও মিডিয়া) তারেক আল মেহেদি জানান, সোহান (২৪) নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং অভিযানে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিনতাই হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমানের ওপর একই ধরনের হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনতাই করা হয়। সেই ঘটনায় পরদিন অস্ত্র উদ্ধার হলেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রশ্ন উঠছে—একই কায়দায় বারবার হামলা, তবুও কেন থামছে না অপরাধীরা? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশল ও প্রস্তুতিতে কি বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে?
