রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে সহিংসতা: কাফরুলে গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত, সদস্য সচিব গুলিবিদ্ধ; কদমতলীতে বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতের শিকার

স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই ২৬, ২০২৬ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর কাফরুল এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে স্থানীয় যুবদলের কর্মী ইউসুফ বেপারী (৩২) নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতের এ ঘটনায় অস্ত্রধারী এক হামলাকারীকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে রাজধানীর কদমতলীতে শামসুদ্দিন খান নামে বিএনপির এক স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের শিকার হন।

কাফরুলে এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ইউসুফ

কাফরুল থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ দুইজনের খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকার শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী মো. সুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, হাফিজুর রহমান, ইউসুফ বেপারীসহ কয়েকজন সেখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত এসে তাঁদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে ইউসুফ ও হাফিজুর গুলিবিদ্ধ হন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউসুফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বুকের মাঝামাঝি গুলি লেগেছিল। গুলিবিদ্ধ হাফিজুর রহমান বর্তমানে অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইউসুফ বেপারীর বাবার নাম শাহজাহান বেপারী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। পরিবারসহ তিনি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

পথচারীও আহত

ঘটনায় মনির হোসেন নামে এক পথচারীও আহত হন। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনির জানান, একটি গুলি অন্য একটি বস্তুর সঙ্গে লেগে ছিটকে এসে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ ইউসুফকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

কদমতলীতে বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতের শিকার

এদিকে রাজধানীর কদমতলীতে শামসুদ্দিন খান নামে বিএনপির এক স্থানীয় নেতা দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে মাতুয়াইল মেডিকেল রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত শামসুদ্দিনের ভাই আজিমউদ্দিন খান জানান, তাঁর ভাই মাতুয়াইল মাতৃসদন ইউনিট বিএনপির সভাপতি এবং শামীমবাগ পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে মাতুয়াইল মেডিকেল রোডে পৌঁছানোর পর স্থানীয় এক যুবক পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে সজোরে ছুরিকাঘাত করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওরফে ‘পেটকাটা শামীম’–এর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।