মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তদের হামলা, ক্যাশ ম্যানেজারসহ আহত ৪; লুট হওয়া অর্থ প্রায় ৩ কোটি টাকা। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেলে এসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের কর্মীদের বহনকারী প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গাড়িতে থাকা তিন বস্তা টাকার মধ্যে দুটি লুট করে পালিয়ে যায় তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজারসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পেটে গুলি লেগেছে। প্রাথমিকভাবে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও তাঁদের গাড়িচালক। তাঁরা নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফিরছিলেন।
১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে এসে হামলা
হামলার শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে প্রায় চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে রাখা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের গাড়িটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথ আটকে দেয়।
এরপর দুর্বৃত্তরা গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে। পরে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। অন্য দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা।
একপর্যায়ে গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গুলিবিদ্ধ ক্যাশ ম্যানেজার, আহত আরও তিনজন
হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেল (৩৫), ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পেটে গুলিবিদ্ধ হিমেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য তিনজনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তাঁর অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ছাড়াই চার কোটি টাকা পরিবহন
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম সমকালকে জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি।
ওসি আরও জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাইভেটকারে থাকা বিকাশের তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
ঘটনায় বিপুল অঙ্কের টাকা লুট ও একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয়, লুট হওয়া টাকার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
