শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবকিছু দ্রুত ঘটবে: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৯, ২০২৬ ৯:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: এএফপি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং হামলার অনুমতি দিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন। ফলে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের দ্বিমুখী বক্তব্যের প্রথম দিকটি হলো- তিনি মনে করেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তিতে জড়াতে চান না এবং সামরিক বাহিনীকে ‘কাজ শেষ করার’ তাগিদ দিয়েছেন। আবার বলেছেন, হামলার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ কোনো যুদ্ধে জড়াচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যা কিছু ঘটার, তা খুব দ্রুতই ঘটবে। আমরা দীর্ঘমেয়াদি কোনো কিছুর দিকে তাকাচ্ছি না।

যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পরও ট্রাম্পের এই নাটকীয় অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে একটি কৌশল বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেটি হলো- হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কিন্তু এই সংঘাত যদি আরও বাড়ে এবং জ্বালানি তেলের দাম চড়া থাকে, তবে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের মাশুল গুনতে হতে পারে।

ট্রাম্প পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিলেও, বুধবার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই নতুন করে হামলা চালাতে যাচ্ছে। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালায়। ইরানও পাল্টা আঘাত হেনেছে। এ অবস্থায় মধ্যস্থতাকারীরা সমঝোতামূলক চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মধ্যস্থতাকারীরা যা করছেন

কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে বর্তমান সংঘাতটি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এই নাজুক পরিস্থিতি সামাল দিতে ও যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে পর্দার আড়ালে দিনরাত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, এ উদ্যোগের নেতৃত্বে আছেন পাকিস্তান ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মিশরের গোয়েন্দাপ্রধান। পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও সৌদি আরবের নেতারাও যুক্ত হয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে তেহরানের ভাষ্য, ওয়াশিংটনই হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নেয়ার ইস্ট পলিসির সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক মাইকেল আইজেনস্ট্যাট মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাই বলুন না কেন, সব পক্ষ এখনও আলোচনার পথে আছে। যা কিছু ঘটছে সেগুলো আলোচনারই একটি অংশ। যুদ্ধবিরতি যে সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে, তা বাতিল ঘোষণা করাটাও আলোচনার কৌশল।

এটা আসলেই আলোচনার কৌশল?

গত এপ্রিলে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আগে ট্রাম্প তাঁর হুমকির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালাবে। সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, ‘একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ গত মাসে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি খসড়া চুক্তির আগেও ট্রাম্প এমন হুমকি দেন।

ট্রাম্প সাধারণত সুবিধাজনক বা শক্তিশালী অবস্থানে থেকে আলোচনা করতে পছন্দ করেন। ফলে নতুন এই হামলার মাধ্যমে তিনি আলোচনার টেবিলে নিজের পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিষয়ক পরিচালক আলী বায়েজ মনে করেন, ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের হুমকি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বায়েজ বলেন, এটি নিশ্চিতভাবেই কূটনৈতিক পথ খোলা রেখে সামরিক চাপ বাড়ানোর একটি চেষ্টা। তবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দরকষাকষি করা একটি বিপজ্জনক খেলা। যেকোনো মুহূর্তে এই চাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি পা ফসকে যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

আলী বায়েজ আরও বলেন, ইরান বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে আছে। এটি কাটানোর বিষয়ে তারা সমঝোতা স্মারকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল। ফলে সেই অর্থনৈতিক সুবিধার আশায় দেশটি আলোচনার টেবিলে ফিরলেও ফিরতে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কারণ হতে পারে অন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানির বাজার। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সময় তিনি বলেছিলেন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। এমনকি চুক্তি হওয়ার পর তেলের দাম কমে গেলে সেটিকে নিজের সাফল্য হিসেবেও প্রচার করেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনও ‘ফ্যাক্টর’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি। এই নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার আশা করছে। কিন্তু যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোটাররা বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হলে তা নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে।

ট্রাম্প এসব উদ্বেগ হেসে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখনই তাদের ওপর আঘাত করি, তেলের দাম সামান্য বাড়ে, বড়জোর ২ ডলার।’ কিন্তু বাস্তবতা দেখাচ্ছে, মার্কিন বাজারে তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য অনেক বেশি বেড়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তেলের দামের ওপরই আসলে অন্য সব কিছুর দাম নির্ভর করে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার জন্য এটুকু মাশুল দেওয়া যায়। আমরা ইরানে হামলা চালালে তেলের দাম সামান্য একটু বাড়তেই পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।