রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা; কৃষক কার্ড ও উপজেলা হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর ঘোষণা। ছবি: সংগৃহীত
পলাতক স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, আর সেই অর্থে দেশের ভেতরে বসে একটি দল অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনের আগে জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা একটি দলের সঙ্গে পলাতক স্বৈরাচারের পক্ষ এক হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আখচাষিদের সরকারি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ১৫টি চিনিকল এলাকার ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে মোট ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারাই কয়েকটি কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকার দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনা, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময় একটি কুচক্রী মহল এসব কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে চায়, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে চায় এবং বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি এবং বেকার শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরি করাও সরকারের লক্ষ্য।
কিন্তু কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জনগণের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের গতি যারা থামিয়ে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির হাতে ১২ কোটি টাকা
রাজশাহীর অনুষ্ঠানে দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য বরাদ্দ করা ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। মঞ্চে বসে ল্যাপটপের বোতাম চেপে অর্থ বিতরণের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
পরে ১৫টি মিল জোনের ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। অর্থ জমা হওয়ার পর কৃষকেরা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার বার্তা পান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
৪০ লাখ কৃষকের কাছে পৌঁছাবে কৃষক কার্ড
কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তারেক রহমান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের অন্তত একটির জন্য সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা করবে সরকার। এ ছাড়া কার্ডের মাধ্যমে ফসলের বিমা এবং সহজে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষকেরা যাতে আবহাওয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও কার্ডের আওতায় রাখার কথা জানান তিনি। কৃষক কার্ডে প্রায় ১০ ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উপজেলা হাসপাতালে শয্যা ৫০ থেকে ১৫০ করার সিদ্ধান্ত
গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, উপজেলা হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হলে গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হবে না। উপজেলা পর্যায়েই তাঁরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আগে যেসব সরঞ্জাম কিনতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হতো, কর কমানোর ফলে এখন তা ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
দুপুরে রাজশাহীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার দুপুরে সামরিক বিমানে রাজশাহীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন।
আখচাষিদের প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আখচাষিদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, শিল্পকারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
