নিভৃত গ্রামের নিরীহ পরিবেশে যেন লুকিয়ে ছিল এক গোপন অন্ধকার জাল—ভালোবাসার আবরণে ছড়িয়ে পড়ছিল অবৈধ উত্তেজনার বিষ। সেই রহস্যের জট খুলতেই বজ্রপাতের মতো অভিযান চালায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোলান রশিদপুর আঁখিরা পুকুর এলাকায় বৃহস্পতিবারের সেই অভিযানে ধরা পড়ে চাঞ্চল্যকর সত্য। মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে রায়হানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৮ হাজারেরও বেশি বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ—যেন নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষার বোতলবন্দী স্রোত।
অভিযানের উত্তাপে ভেঙে পড়ে নীরবতা। রায়হানের স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে আরও গভীর চক্রের ইঙ্গিত। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল আরও সাড়ে সাত হাজার বোতল সিরাপ—যেন অদৃশ্য এক জালের মতো ছড়িয়ে পড়ছিল অবৈধ বাণিজ্য।
এদিকে র্যাবের সহযোগিতায় পরিচালিত বিজিবির পৃথক দুই অভিযানে মোট উদ্ধার হয় ১৫,৫৪৮ বোতল সিরাপ, যার সিজার মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা—সংখ্যার চেয়ে বড় এর ভয়াবহতা।
তবে এই অভিযান যেন শুধুই আইনের প্রয়োগ নয়, বরং সমাজকে রক্ষা করার এক নীরব লড়াই। কারণ ভালোবাসা যেখানে নির্মল হওয়ার কথা, সেখানে এমন অবৈধ উত্তেজনার ব্যবসা ছড়িয়ে দেয় বিভ্রান্তি ও অন্ধকার।
আবার জয়পুরহাট ২০ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— সীমান্তজুড়ে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা শূন্য সহনশীল। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছে বিজিবি।
সীমান্তের বাতাসে এখন একটাই বার্তা—
ভালোবাসা হোক নির্মল, আর অপরাধের বিরুদ্ধে থাকুক কঠোর প্রহরা।
