চিকিৎসার আশায় যেখানে মানুষ খোঁজে নিরাপত্তা, সেখানেই লুকিয়ে ছিল অনিয়ম আর অবহেলার অন্ধকার ছায়া। ফরিদপুর শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত রয়েল হাসপাতাল ও ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার—যেখানে সেবা পাওয়ার কথা ছিল জীবন বাঁচানোর, সেখানে মিলেছে ভয়ংকর অব্যবস্থাপনার চিত্র। অবশেষে সেই অন্ধকারে হানা দিল প্রশাসনের কঠোর অভিযান।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠান দুটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাসহ সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অভিযানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, রয়েছে ভুয়া নার্স ও ভুয়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছিল চিকিৎসা কার্যক্রম, যা রোগীদের জীবনের জন্য হয়ে উঠেছিল এক অদৃশ্য ঝুঁকি।
এদিকে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধিরা জানান, এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করার নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ভুক্তভোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দুর্ঘটনা কেউ চায় না, কিন্তু সেবার মান যদি নিম্নমানের হয়, তাহলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মানহীন চিকিৎসা সেবা বন্ধ করা।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে—কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আগে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানটির বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি। কারণ সামান্য অসাবধানতাই জীবনকে ঠেলে দিতে পারে অনিশ্চিত ঝুঁকির মুখে।
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা টিপু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্যসেবার নামে এই অনিয়মের পর্দা ফাঁস যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—সেবা আর বিশ্বাসের মাঝে এক সূক্ষ্ম সম্পর্ক আছে, আর সেই বিশ্বাস ভেঙে গেলে তার মূল্য দিতে হয় জীবন।
