উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হাজারো শিক্ষার্থী—বিদেশে উচ্চশিক্ষার আশায় যাত্রা শুরু করেই কেউ কেউ পড়ে যাচ্ছে অন্ধকার এক প্রতারণার ফাঁদে। দেশে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে, যা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়—দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ও অর্থনীতির জন্যও হয়ে উঠছে বড় হুমকি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও প্রমাণে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। কিছু অসাধু চক্র ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি, মানি লন্ডারিং, অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং ভুয়া ভিসা দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত। স্বপ্ন দেখানোর মোড়কে তারা আদায় করছে অযৌক্তিক সার্ভিস চার্জ, আত্মসাৎ করছে টিউশন ফি, আর ভুল পথে পরিচালিত করে শিক্ষার্থীদের ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনিয়ম শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবনকে বিপন্ন করছে না—বরং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদেশি আস্থাকেও নড়বড়ে করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলেও জানা গেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অশনিসংকেত।
প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হলেও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রকে নির্মূল করার জোর দাবি উঠেছে।
এদিকে সরকার রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসী ঋণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা দিলেও, একই সময়ে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য সেই উদ্যোগকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এখনই এই চক্রের লাগাম টেনে ধরা না গেলে বিদেশে পড়াশোনায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ মারাত্মকভাবে কমে যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রেমিটেন্স খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—কোনো স্টুডেন্ট কনসালটেন্সির সেবা গ্রহণের আগে অবশ্যই বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করতে হবে। কারণ, একটি ভুল সিদ্ধান্ত শুধু একটি স্বপ্ন নয়—একটি ভবিষ্যৎও ধ্বংস করে দিতে পারে।
