বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুগদা-মানিকনগরে আলোচিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রে অভিযান, দুই সদস্য আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা

জাহিদুল আলম
জুন ১৭, ২০২৬ ৫:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে আলোচিত চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনের দাবি স্থানীয়দের। ফাইল ছবি

রাজধানীর মুগদা-মানিকনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে চক্রটির দুই সন্দেহভাজন সদস্যকে আটক করে মুগদা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে চক্রটির কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরী ও আল আমিন আবিরের সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন সাংবাদিক অনুসন্ধান শুরু করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে মুগদা-মানিকনগর এলাকায় স্থানীয় জনতা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মৌসুমি ওরফে পাপ্পি (৫০) এবং মুক্তা (৪০) নামে দুই নারীকে আটক করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুর রহমান সুমন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম অপু, যুবদল নেতা আলামিনসহ স্থানীয় আরও অনেকে।

কী অভিযোগ স্থানীয়দের?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মৌসুমি ওরফে পাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন।

আটকের পরপরই দুই নারীকে মুগদা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কথিত এই চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ কী বলছে?

মুগদা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সচেতন মহলের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং এলাকাবাসীর সক্রিয় ভূমিকার ফলেই আলোচিত এই চক্রের সন্দেহভাজন সদস্যদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তারা চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও সমানভাবে জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।