নিশ্ছিদ্র রাত, চারপাশে থমথমে নীরবতা—ঠিক সেই সময়েই গোপন অভিযানে নামে এলিট ফোর্স র্যাব। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনী আবারও প্রমাণ করলো, অপরাধ যতই অন্ধকারে লুকাক, ন্যায়বিচারের আলো একদিন তাকে খুঁজে নেবেই।
র্যাব-১, সিপিসি-৩ পূর্বাচল ক্যাম্পের একটি চৌকস দল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর ২১ এপ্রিল ২০২৬ রাতে গাজীপুর জেলার পুবাইল থানার মীরের বাজার এলাকায় টহলরত অবস্থায় একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। খবর আসে—কালিয়াকৈরের হরতকিতলা এলাকায় এক গোপন আস্তানায় জমে উঠেছে মাদকের অন্ধকার সাম্রাজ্য।
গভীর পরিকল্পনায় অভিযানে নামে র্যাব সদস্যরা। নিশ্ছিদ্র অভিযানে ২২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তারা পৌঁছে যায় সেই রহস্যঘেরা ফ্ল্যাটে—সিকদার মহলের দ্বিতীয় তলায়, যেখানে যেন নিঃশব্দে গড়ে উঠেছিল অবৈধ ব্যবসার এক গোপন দুর্গ।
অভিযান টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে দুই মাদক কারবারি— মোঃ দাদন মিয়া (৩২) মোঃ শিহাব উদ্দিন (২২)।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। র্যাবের তীক্ষ্ণ নজর আর দ্রুত কৌশলের কাছে ধরা পড়ে যায় তারা—যেন পালানোর সব পথ মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর যা উদ্ধার হলো, তা যেন এক ভয়ংকর বাস্তবতার দরজা খুলে দিল— ৭০ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা (মূল্য প্রায় ২১ লাখ ২১ হাজার টাকা)। মাদক বিক্রির নগদ ৩,৭০,৫০০ টাকা। ০২টি স্মার্ট মোবাইল ফোন।
সবকিছু উদ্ধার করা হয় তাদের শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে—যেখানে লুকানো ছিল এই অবৈধ সাম্রাজ্যের নিঃশব্দ প্রমাণ।
অভিযান শেষে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে সকল আলামত আইন অনুযায়ী কালিয়াকৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের এই সফল অভিযানে আবারও স্পষ্ট—
অপরাধ যতই গোপনে ফুলে-ফেঁপে উঠুক, একদিন না একদিন সত্যের মুখোমুখি হতেই হয়। আর সেই সত্যের নাম—আইন, ন্যায়বিচার, এবং সাহসী অভিযান।
