কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক ঘটনা! দায়িত্ব পালনের আগেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জেলা রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের সভাপতি ও পয়েন্টসম্যান ওসমান গনি। অভিযোগ উঠেছে, ১১ মে’র ডিউটি শেষ না হতেই তিনি ১২ মে’র উপস্থিতির ঘরেও আগাম সই দিয়ে রেখেছেন। ঘটনাটির প্রমাণ সামনে আসতেই স্টেশনজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
রেলওয়ের ভেতরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। সহকর্মীদের দাবি, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রায়ই অফিসে অনুপস্থিত থাকেন ওসমান গনি। আর সেই অনুপস্থিতি আড়াল করতেই হাজিরা খাতায় আগেভাগে স্বাক্ষর করে রাখার কৌশল নেন তিনি। এবার সেই কৌশলই যেন উল্টো তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, ওসমান গনি একসময় জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে গত বছরের ২৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তে তিনি জেলা রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের সভাপতি হন। রাজনৈতিক পরিচয়ের এই পালাবদল নিয়েও রেলপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ছিল চাপা আলোচনা।
তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওসমান গনির দাবি, পুরো ঘটনাই ভুলবশত ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য, “১১ মে আমি নাইট ডিউটি করেছি। সকালে ঘুমের ঘোরে ভুল করে ১১ ও ১২ মে—দুই দিনের ঘরেই সই হয়ে গেছে।
শ্রমিক লীগ থেকে শ্রমিক দলে যোগ দেওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। দাবি করেন, ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই তাঁকে শ্রমিক লীগের কমিটিতে রাখা হলেও মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
এদিকে আগাম স্বাক্ষরের ঘটনা নিয়ে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এখন সবার চোখ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে— আগাম সইয়ের এই রহস্যে শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
