ফাইল ছবি
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক শিক্ষার্থীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আইনি বিতর্ক। বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুব আলমকে আদালতে তলব করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ মে। ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক চার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে নিয়মিত মামলায় আদালতে পাঠানোর পরিবর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে অভিভাবকরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করে তাদের মুক্ত করেন।
এই ঘটনাকে ঘিরেই আইনি প্রশ্ন তোলেন চাঁদপুরের আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ। গতকাল রোববার স্বপ্রণোদিত হয়ে দেওয়া আদেশে তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় ইভটিজিং একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ।
পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১০ ধারার অধীনে এটি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এ ধরনের মামলার বিচারিক এখতিয়ার শুধুমাত্র জুডিশিয়াল বা আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের— কোনোভাবেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো আইনগত সীমা লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। এমনকি এটি দণ্ডবিধির ২২০ ধারার পরিপন্থিও হতে পারে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া কেন অনুসরণ করা হয়নি— সেই প্রশ্নের জবাব দিতেই মঙ্গলবার আদালতে হাজির হতে হবে ওসি মীর মাহবুব আলমকে। একইসঙ্গে ঘটনাটিতে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যাও জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওসি মীর মাহবুব আলম নিজে কথা না বলে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা তারা পেয়েছেন এবং ওসি অবশ্যই আদালতে উপস্থিত হবেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত চারজনই এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং ভিকটিম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সবার নজর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
