রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবশেষে ফাঁস হলো বিতর্কিত কেরানি আব্দুর রহমানের অঢেল সম্পদের গল্প

স্টাফ রিপোর্টার
মে ২৪, ২০২৬ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঘুষের সাম্রাজ্য, সিন্ডিকেটের দাপট আর কোটি কোটি টাকার অভিযোগে তোলপাড় খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রার অফিস। ফাইল ছবি

তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে এক আতঙ্কের নাম কেরানি আব্দুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে—ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, দলিল জিম্মি করে হয়রানি এবং প্রভাব বিস্তার করে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আর সেই সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় সাধারণ দলিল লেখক, দাতা-গ্রহীতা ও সেবাপ্রার্থীরা আজ কার্যত অসহায়।

একাধিক সূত্রের দাবি, নকল নবিস হিসেবে চাকরি শুরু করলেও সময়ের ব্যবধানে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন আব্দুর রহমান। সাভার সাবরেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকাকালেই তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে শক্তিশালী কমিশন সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
সাভারে বহুতল বাড়ি, মার্কেটে দোকান, বাগানবাড়ি—সম্পদের পাহাড়।

সূত্র জানায়, সাভারের রেডিও কলোনির পাশে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন পাঁচতলা বাড়ি। এছাড়া সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার বহুতল মার্কেটে রয়েছে একাধিক দোকান, যার বাজারমূল্যও কোটি টাকার ওপরে।

শুধু তাই নয়, সাভার পৌর এলাকার থানার পেছনে রয়েছে বিপুল সম্পত্তি। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দেড় বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন বাগানবাড়ি। অভিযোগ রয়েছে—নামে-বেনামে আরও অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী।
এমনকি রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বাইরে অর্থ পাচারের মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নামলে বেরিয়ে আসতে পারে আরও ভয়ংকর তথ্য।

লীগ থেকে বিএনপি—ক্ষমতার পালাবদলে বদলে যায় পরিচয়!
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে নিজেকে ক্ষমতাসীন লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন আব্দুর রহমান। আর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন বিএনপি-ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ফলে প্রশাসনিক মহলেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

“ঘুষ না দিলে দলিল আটকে রাখা হয়”
খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করেন, আব্দুর রহমানের চাহিদামতো টাকা না দিলে দলিল আটকে রাখা হয়, নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। অথচ মোটা অঙ্কের ঘুষ দিলেই দ্রুত সম্পন্ন হয় সব কাজ।

দলিল লেখক জাহিদ হোসেন জানান, আমরা কার্যত তাঁর হাতে জিম্মি। কারণ ছাড়া দলিল আটকে রাখা হয়। আবার টাকা দিলেই সব ঠিক হয়ে যায়।

ভাইরাল হয়েছিল ঘুষ নেওয়ার ভিডিও

বিগত সময়ে ধামরাইয়ের কালামপুর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকাকালে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ২০২৫ সালের ২০ মে প্রকাশ পাওয়া ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে প্রকাশ্যে টাকা গুনতে দেখা যায় আব্দুর রহমানকে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
সেই সময় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নীরব ভূমিকাও প্রশ্নের জন্ম দেয় জনমনে।

সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রার অফিসে প্রতি দলিলে সরকারি এনএন ফি ৫৭২ টাকা হলেও এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হয়। এমনকি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।

দলিল লেখকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই শুরু হয় নানামুখী হয়রানি। ফলে ভুক্তভোগীদের কাছে “হয়রানির আরেক নাম” হয়ে উঠেছেন কেরানি আব্দুর রহমান।

অভিযোগের পাহাড়, তবুও অধরা ব্যবস্থা

সূত্র জানায়, আইজিআর অফিসে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে সেগুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি। অভিযোগ উঠেছে—অবৈধ টাকার প্রভাব আর অদৃশ্য শক্তির কারণেই বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বর্তমানে খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রার অফিসজুড়ে চলছে ঘুষ, কমিশন আর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের এক অঘোষিত সাম্রাজ্য—এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে আব্দুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।