সীমান্ত এলাকায় টহলরত পাকিস্তানি সেনা। ফাইল ছবি: এএফপি
আফগানিস্তানে সীমান্তবর্তী ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’গুলোতে হামলা চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। বুধবার দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এমন দাবি করেছেন। এর আগে তালেবান সরকার বলেছিল, হামলায় তিনটি প্রদেশে শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আতাউল্লাহ তারার লিখেছেন, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’-এর পরিকল্পনাকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ভারতের মদদপুষ্ট ২৬ জন নিহত হয়েছে।
‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ বা টিটিপিকে ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ হিসেবে উল্লেখ করে। ডন লিখেছে, মঙ্গলবার পেশোয়ারের হাসান খেল এলাকায় সন্ত্রাসীদের একটি চেকপোস্ট দখলের চেষ্টা প্রতিহতের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। এর জবাবে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালানো হলো।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে হামলার কথা স্বীকারের আগে আফগানিস্তানের সরকার জানায়, ইসলামাবাদের বিমান হামলায় তিনটি প্রদেশে শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই হামলা চালানো হয়।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, প্রদেশ তিনটি হলো কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ আছেন। মুজাহিদ আরও জানান, হামলায় আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। তিনি এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।
খোস্ত প্রদেশের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলায় স্পেরা জেলার একটি বাড়িতে ৯ জন নিহত এবং অন্য ১০ জন আহত হয়েছেন। পাশের পাকতিকা প্রদেশের দুই বাসিন্দা জানান, বারমাল জেলায় পৃথক হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিমান হামলাটি একটি বাড়িতে আঘাত হানে এবং নিহতরা সবাই শিশু।
