আটক যুবককে পিটিয়ে হত্যার গুজবে থানায় হামলার চিত্র। ছবি : সংগৃহীত
চুরি মামলায় গ্রেপ্তার এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে আগৈলঝাড়া থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই থেকে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ থানায় হামলায় অংশ নেন। এ সময় থানা ভবনে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পুলিশের পাঁচ সদস্যকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষে থানার এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন ও মেহেদি হাসান এবং গ্রেপ্তার রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগম (৪৭)-সহ দুই পক্ষের মোট ১২ জন আহত হন।
গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত নাছরিন, শারমিন, মমতাজ এবং দুই পুলিশ সদস্য আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে আহত আরও কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওসি মাসুদ খান জানান, যার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছিল, সেই রিয়াজ ফকির বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান শান্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রিয়াজের মাথায় আঘাত থাকলেও তার কোনো গুরুতর ইনজুরি নেই।
পুলিশ জানায়, চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে বুধবার সন্ধ্যায় আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি দেয়ালে নিজের মাথায় একাধিকবার আঘাত করলে জ্ঞান হারান। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার সহকারী পরিদর্শক আব্দুল হালিমকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে হামলাকারীরা থানা ভবনের বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে জানান ওসি।
অন্যদিকে, রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির দাবি করেন, রিয়াজকে বিনা অপরাধে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। মারধরের কারণেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে ওসি মাসুদ খান বলেন, চুরি মামলায় রিয়াজকে আইনানুগভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানার হাজতখানায় তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে জ্ঞান হারান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিয়াজের আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেছেন। হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
