রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদক সম্রাট আলমগীরকে ধরতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা: দুই এসআইসহ ৭ পুলিশ আহত, রাতেই সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
জুলাই ২৬, ২০২৬ ১:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি : সমতল মাতৃভূমি

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী আমবাগান এলাকায় দুর্ধর্ষ মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতারের অভিযানে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই উপপরিদর্শক (এসআই)সহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলশী আমবাগান রেললাইন সংলগ্ন তরুণ সংঘ মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডবলমুরিং থানাধীন দেওয়ানহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল এবং আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মমিনুল ইসলামসহ সাতজন পুলিশ সদস্য।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল ও এসআই মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একদল কিশোর গ্যাং সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।

হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ করলে দুই এসআইসহ সাতজন আহত হন।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের দাবি, খুলশী ঝর্ণাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। মাদক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সে একাধিক কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আলমগীরের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে সে।

হামলার পর স্থানীয় লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পরে আলমগীরের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আলমগীরের পরিবারের একাধিক সদস্যও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার মা রেনু বেগম ও ভাই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।

ডবলমুরিং থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম জানান, আলমগীরকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছিল এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাতেই গ্রেফতার শীর্ষ মাদক কারবারি আলমগীর

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাত ১১টার দিকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ১৫ মামলার আসামি ও শীর্ষ মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।